সোমবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২১

নাসিরনগরে তৈরি হচ্ছে দেশীয় মাছের নানা জাতের শুঁটকি

আরও পড়ুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তৌহিদুর রহমান নিটল: হাওরবেষ্টিত হওয়ায় দেশীয় মাছের শুটকি উৎপাদনের জন্য বেশ উপযোগী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর। চলতি বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঁচায় শুঁটকি উৎপাদনে এখানকার ব্যবসায়ীরা রীতিমতো ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সদর ইউনিয়নের গাঙ্কুলপাড়ার নদীর তীর ঘেঁষে তৈরি হয়েছে শুটকি তৈরির মাঁচা। দেশীয় নানা জাতের মাছ এসব মাঁচার উপর বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাখা হয়েছে। শুঁটকি তৈরিতে এখানে প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক বর্তমানে কাজ করছেন।

এদের অধিকাংশই নারী। কোনো ধরনের কীটনাশক ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয় বলে এখানকার শুঁটকির সুখ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নরসিংদী ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকাররা এসে নিয়ে যান এখানকার শুঁটকি।

উপজেলার বিলবালিঙ্গা, মেদীর বিল, আটাউরী, উত্তরবাল্লা ও লঙ্গন নদীর মিঠাপানির মাছ বিশেষ করে শৈল, চান্দা, গজার, পুঁটি, টেংরা, বোয়াল, বাইম, বাইলা, চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ দিয়ে তৈরি হয় এসব শুঁটকি।

নীলু মোহন দাস নামের এক শুঁটকি ব্যবসায়ী বলেন, এ আবহাওয়ায় শুঁটকি ভালো হচ্ছে। এ ব্যবসায় যুক্ত জেলেরা অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং এখানে শুঁটকি তৈরিকে কেন্দ্র করে অনেক কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে। শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার কয়েকশ’ নারী।

শুঁটকি ব্যবসায়ী ছিদ্দিক মিয়া বলেন, বছরের আশ্বিন মাস থেকে শুরু করে মাঘ মাস পর্যন্ত শুঁটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেন এখানকার নারী-পুরুষ অনেক শ্রমিক। আমরা এক মৌসুমে গড়ে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করে থাকি।

তিনি বলেন, আমাদের উৎপাদিত শুঁটকি দেশের গন্ডি পেরিয়ে এলসির মার্ধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও যায়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শুভ্র সরকার বলেন, শুঁটকি ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে কীভাবে শুঁটকি তৈরি করবেন সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য আমরা একটা তালিকা প্রণয়ন করেছি। আশা করি এ থেকে ভালো সুফল পাবেন তারা। এখানকার শুঁটকিগুলোর গুণগতমান ভালো।

নিউজ হান্ট/এএস

সর্বশেষ