সোমবার, অক্টোবর ১৮, ২০২১

নুরের বিরুদ্ধে ‘দুশ্চরিত্রাহীন’ বলার প্রমাণ মেলেনি

আরও পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের ফেসবুক লাইভে ঢাবির এক নারী শিক্ষার্থীকে ‘দুশ্চরিত্রাহীন’ বলে মন্তব্যের সত্যতার প্রমাণ পায়নি মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

রোববার আদালতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক ফরিদা পারভীন।

আগামী ১৩ অক্টোবর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে প্রতিবেদনের বিষয়ে শুনানি হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পেশকার শামীম আল মামুন।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাদীকে উদ্দেশ করে নুরের করা মন্তব্য দুশ্চরিত্রাহীন শব্দের বিষয়ে বাংলা একাডেমির মতামত নেয়া হয়। বাংলা একাডেমির জানায়, দুশ্চরিত্রাহীন বলে কোনো শব্দ বাংলা ভাষায় নেই। এছাড়া দুশ্চরিত্রাহীন শব্দটির অর্থ করা হলে দাঁড়ায়, উন্নত চরিত্রের অধিকারী বা সদাচারী বা সৎ স্বভাব বিশিষ্ট।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভিপি নুরের ফেসবুক আইডি ডিজিটাল ফরেনসিক টিমের মাধ্যমে পরীক্ষা করে মতামত নেয়া হয়। এতে দেখা যায়, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর বাদীকে উদ্দেশ করে ‘ছি! আমরা ধিক্কার জানাই এত নাটক যে করছে সে দুশ্চরিত্রাহীন। ধর্ষণের নাটক করছে। স্বেচ্ছায় একটি ছেলের সাথে বিছানায় গিয়ে…’ এমন কোনো বক্তব্য তার ফেসবুকে পাওয়া যায়নি। তাই নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২০১৮ এর ২৫ (১)ক, ২৯(১) ৩১(২) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।’

২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর আদালতে নুরের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, নুরুল হক নুর ১২ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে তার ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি বাদীকে ‘দুশ্চরিত্রহীন’ বলেন। ভিডিওতে বাদীর জন্য অপমানজনক, মানহানিকর এবং আক্রমণাত্মক তথ্য প্রকাশ করেন নুর, যা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

একই শিক্ষার্থী নুর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে রাজধানীর কোতোয়ালী ও লালবাগ থানায় ধর্ষণের মামলা দুটি করেছিলেন। ওই দুই মামলায়ও নুরের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি মর্মে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।

নিউজ হান্ট/ম

সর্বশেষ