মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২১

পটুয়াখালীতে চাঞ্চল্যকর মাসুদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৪, অস্ত্র উদ্ধার

আরও পড়ুন

মোঃ জাকির হোসেন পটুয়াখালী থেকে: পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড় বিঘাই ইউনিয়নে সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন চলাকালে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাবেক চেয়ারম্যান মজনু মোল্লার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল চালক মাসুদ বেপারী হত্যাকাণ্ডে চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া চেয়ারম্যানের ঘরের পাশে ডোবা থেকে হতাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মাহফুজুর রহমান। তিনি জানান, এ ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান ৪ আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আসামীরা হলো, আল আমিন, বিল্লাল হোসেন, মাসুদ বিল্লাহ অন্য একজনের নাম তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, মাসুদ রানা ব্যাপারীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে জনৈক শ্যামল ডাক্তারের ডোবায় (পুকুরে) ফেলে রাখা হয়। মাসুদের ভাই মাহফুজুর রহমান পটুয়াখালী সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে গত ৭ নভেম্বর একটি মামলা রুজু করেন।

মামলা রুজু পরবর্তীতে মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার তাৎক্ষনিক দিক-নির্দেশনায় মামলা রুজুর ০৫ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ০৪ জন আসামীকে গ্রেফতার করেন। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, নির্বাচন কালীন সময়ে তারা স্থানীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মজনু মোল্লার সমর্থনে প্রচারণা চালাতেন। স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ভিকটিম মাসুদ রানাকে টার্গেট করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার জন্য হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামী আল আমিন ঘটনার দায় স্বীকার পূর্বক ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীর নাম উল্লেখ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। গত ১১ নভেম্বর বড় বিঘাই এলাকা হতে স্থানীয় জনগণের সহায়তায় ঘটনায় জড়িত মাষ্টারমাইন্ড বিল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

বিল্লালের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য সমূহ ও আসামীদের দেওয়া তথ্য সমূহ পর্যালোচনা শেষে ঘটনায় জড়িত অপর আসামী মাসুম বিল্লাহকে ২৩ নভেম্বর পালিয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে মির্জাগঞ্জ থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়। আসামীরা প্রত্যেকেই এই ঘটনায় জড়িত মর্মে স্বীকার করলেও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামতসমূহ উদ্ধারের ব্যাপারে কৌশলে নিজেদের এড়িয়ে যায়।

সর্বশেষ ধৃত আসামী মাসুম বিল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত বড় বিঘাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ওয়াহিদুজ্জামান মজনু মোল্লার ঘরের উত্তর পাশের ডোবা থেকে ০১ টি চাইনিজ কুড়াল, লোহার রডের সাথে স্ক্রু সংযুক্ত চেইন গিয়ার এর সমন্বয়ে তৈরিকৃত দেশীয় অস্ত্র এবং ০২টি বগি দা উদ্ধার করা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য মাসুদ রানাকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মজনু মোল্লা জড়িত কি না তা আমরা নিবিড়ভাবে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না।

উল্লেখ্য গত ৬ নভেম্বর দিবাগত রাতে মাসুদে রানাকে হত্যা করে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড় বিঘাই ইউনিয়নের দক্ষিণ গ্রামের একটি পুকুরে ফেলে রেখে যায় আসামীরা। মাসুদ বড় বিঘাই ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের লতিফ ব্যাপারীর ছেলে। তিনি বড় বিঘাই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী অহিদুজ্জামান মজনু মোল্লার ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল চালক ছিলেন।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

সর্বশেষ