মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৬, ২০২১

পেঁয়াজের ঝাঁজে দিশেহারা ভোক্তা

আরও পড়ুন

পেঁয়াজের ঝাঁজ কিছুতেই কমছে না। কোনো কারণ ছাড়াই মাত্র চার থেকে পাঁচ দিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০-২৫ টাকা। এতে রীতিমতো দিশেহারা ভোক্তা।

বুধবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা কেজি দরে। তবে আগের কেনা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা কেজি। অথচ গত শুক্রবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর বাজারে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৪৫-৫০ টাকা কেজি। অর্থাৎ কেজি প্রতি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২০-২৫ টাকা।

আরও বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। নতুন করে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় ক্রেতারা পড়েছেন চরম বিপাকে। পেঁয়াজ কিনতে এসে বিক্রেতাদের সঙ্গে দরকষাকষি করতে হচ্ছে। ক্রেতাদের বিভিন্ন কথায় বিক্রেতারাও বিরক্ত হচ্ছেন।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানি হওয়া পেঁয়াজবাহী ট্রাকে পূজার কারণে চাঁদাবাজি, সরবরাহ কম এবং ভারতে দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে আগে নাসিক ও ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে শুধু ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। গত বুধবার ৩০ টাকা বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার বন্দরে আমদানি হওয়া পেঁয়াজ পাঁচ টাকা বেড়ে পাইকারিতে (ট্রাকসেল) ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। রবিবার তা বেড়ে ৪৫ টাকায় দাঁড়ায়, সোমবার প্রকারভেদে ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয় আমদানি হওয়া পেঁয়াজ।

বন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী স্বপন কুমার বলেন, গত কয়েকিদন ধরে পেঁয়াজের দাম বাড়তির দিকে। ভারতেও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এর ওপর কয়েকিদন পরেই হিন্দু ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ কারণে পেঁয়াজের ট্রাকগুলোকে বন্দরে আসা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্লাবকে চাঁদা দিতে হয়। এতে গাড়িভাড়াও বেশি পড়ে যাচ্ছে। যে কারণে পরিবহন খরচ বাড়ছে, পেঁয়াজবাহী ট্রাক আসাও কমেছে।এর প্রভাবে দাম বাড়ছে। এছাড়া ভারতীয় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরির মাধ্যমেও পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণেও পেঁয়াজ কম ঢুকছে। তবে পূজার পর এই অবস্থার উন্নতি হবে বলে জানান তিনি।

বন্দরের আরেক ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন পরেই হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। এ কারণে হিলিসহ দেশের সবগুলো বন্দর দিয়ে বেশ কয়েকদিন আমদানি রফতানি বন্ধ থাকবে। এ কারণে পেঁয়াজ ঢুকবে না। এ জন্য সবাই চাইছে পেঁয়াজ স্টক করতে। যারা আগে এক ট্রাক পেঁয়াজ কিনতো, তারা দুই বা তিন ট্রাক করে পেঁয়াজ কিনছেন। এদিকে দেশীয় পেঁয়াজের দাম আগের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় আমদানি হওয়া পেঁয়াজের চাহিদা বেড়েছে। এসব বিভিন্ন কারণে দেশের বাজারে দাম বেড়ে গেছে।

বন্দরের আমদানিকারক ও আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে পেঁয়াজের জমি নষ্ট হয়ে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। যে কারণে আগে যেসব অঞ্চল থেকে পেঁয়াজ আসতো তার মধ্যে এখন কিছু কিছু জায়গা থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ রয়েছে। এতে ভারতের বাজারেই সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে। এছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে বেশ কিছুদিন বন্দরের আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকবে। এসব কারণে ভারতের কৃষকরা জমি থেকে পেঁয়াজ উঠানো কমিয়ে দিয়েছেন। তবে ভারতের বেশ কিছু অঞ্চলে নতুন জাতের পেঁয়াজ ওঠা শুরু করেছে। পূজার বন্ধ শেষে আমদানি বাড়বে ও দাম কমবে বলে জানান তিনি।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তবে গত সপ্তাহে পেঁয়াজের আমদানি কমে এসেছিল। পূজার পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দেশে প্রতি বছর পেঁয়াজের চাহিদা ৩০ লাখ টন। এর মধ্যে উৎপাদন হয়েছে ২৫ লাখ ৫৭ হাজার টন। তবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সাধরণত উৎপাদিত পেঁয়াজ দাঁড়ায় ১৮ থেকে ১৯ লাখ টনে। বাকি চাহিদা মেটাতে প্রায় ১১ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। প্রতিবেশী দেশ, সড়ক পথে দ্রুত আনা, কম দাম বিবেচনায় প্রধানত ভারত থেকেই বেশিরভাগ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। ফলে দেশটি থেকে পেঁয়াজ আমদানি কমে গেলেই বাংলাদেশের বাজারে নিত্যপণ্যটির দাম বাড়তে থাকে।

নিউজ হান্ট/ম

সর্বশেষ