সোমবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২১

প্রেমের টানে এবার দেশ ছাড়লেন জাপানের সাবেক রাজকুমারী

আরও পড়ুন

জাপানি আইনে রাজপরিবারের কোনো নারী সদস্য যদি বাইরের কোনো সাধারণ পুরুষকে বিয়ে করেন তাহলে তিনি রাজকীয় মর্যাদা হারান। তবে পুরুষ সদস্যের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

আর তাই এবার ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করতে গিয়ে রাজমর্যাদা বিসর্জন দিয়েছেন জাপানের সাবেক রাজকুমারী মাকো। ছেড়েছেন রাজপ্রাসাদ, রাজপদবি। এমনকি ফিরিয়ে দিয়েছেন রাজকীয় সুযোগ সুবিধাও। বিয়ে করেছেন সাধারণ পরিবারের এক মানুষকে। এবার সেই ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে দেশও ছাড়লেন তিনি। পাড়ি জমালেন ভিনদেশে।

রবিবার (১৪ নভেম্বর) বাণিজ্যিক একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের উদ্দেশে টোকিও ছাড়েন মাকো ও কেই কোমুরো। খবর এএফপি, বিবিসি’র।

এএফপির খবরে বলা হয়, টোকিওর বিমানবন্দরে ১০০ জনের মতো সংবাদকর্মী উপস্থিত থাকলেও তাদের কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়েই চলে যান মাকো-কোমুরো। বিমানবন্দরের কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ এ জুটিকে ঘিরে রেখেছিল।

নিউইয়র্কে আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন কেই কোমুরো। তার আইন বিষয়ে পড়াশোনাও সেখান থেকেই।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার সকালে জীবনসঙ্গী কেই কোমুরোকে নিয়ে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে করে নিউইয়র্কের উদ্দেশে টোকিও বিমানবন্দর ছেড়ে গেছেন জাপানের সাবেক রাজকুমারী মাকো। নিউইয়র্কের যেখানে কেই কোমুরো আইন সংস্থায় কাজ করেন সেখানে একটি ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে উঠবেন এই দম্পতি।

ছবি: এপি

নিউইয়র্ক যাওয়ার আগে মাকো-কোমুরো এতদিন টোকিওর এক অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন বলেও জানা যায়।

মাকো ও কোমুরোর প্রথম দেখা ২০১২ সালে। সে সময় তারা টোকিওতে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটিতে পড়তেন। একসঙ্গে পড়াশোনার সুবাদে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৭ সালে তাদের বাগদান হয়। পরের বছরই চার হাত এক হওয়ার কথা থাকলেও, বাধ সাধে পারিবারিক টানাপোড়েন। অবশেষে বিয়েটা মেনে নেন বাবা যুবরাজ ফুমিহিতো।

চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।

এদিকে ২০১৭ সালে মাকোর সঙ্গে বাগদানের ঘোষণার পর কোমুরো ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেগুলোতে অভিযোগ করা হয়, কোমুরোর পরিবার আর্থিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত। গুঞ্জন রটে কোমুরোর মা তার সাবেক প্রেমিকের কাছ থেকে অর্থ ধার করে তা ফেরত দেননি। রাজপরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ে বন্ধ করার ক্ষেত্রে এ ঘটনার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করা হয়। তবে রাজকুমারী মাকোর বাবা যুবরাজ ফুমিহিতো বলেছিলেন, বিয়ের আগে অবশ্যই অর্থের বিষয়টি মিটিয়ে ফেলতে হবে।

মাকো ও কোমুরোকে হাত নেড়ে বিদায় জানাচ্ছেন মানুষ | ছবি: রয়টার্স

তখন রাজপরিবারের হাউসহোল্ড এজেন্সি জানিয়েছিল, সংবাদমাধ্যমগুলোতে এত বেশি লেখালেখির কারণে মানসিক জটিলতায় ভুগছেন মাকো।

গত মাসে বিয়ের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সে প্রসঙ্গটি টেনে এনেছিলেন সাবেক রাজকুমারী। মাকো বলেন, ‘গুজব ও ভিত্তিহীন গল্প ছড়িয়ে পড়ায় ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। হতাশা ও যন্ত্রণা বোধ করছিলাম আমি।’

কোমুরো ওই সংবাদ সম্মেলনে জানান, মাকো মানসিক ও শারীরিকভাবে খারাপ অবস্থায় আছেন জানার পর তিনিও খুব উদাস হয়ে পড়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি মাকোকে ভালোবাসি। একটাই তো জীবন আমাদের। ভালোবাসার মানুষকে সঙ্গে নিয়েই তা কাটিয়ে দিতে চাই।’

জাপানি রাজকুমারীর এই ঘটনাকে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলের বিয়ের সাথে তুলনা করা হচ্ছে। এই যুগলকে বলা হচ্ছে ‘জাপানের হ্যারি ও মেগান’।

নিউজ হান্ট/এএস

সর্বশেষ