বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২১, ২০২১

বঙ্গবন্ধু টানেলের দ্বিতীয় মুখ খুলছে আজ

আরও পড়ুন

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ শুক্রবার মধ্যরাতে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দ্বিতীয় মুখ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

এর ফলে নদীর তলদেশ দিয়ে উভয়প্রান্তে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট গাড়ি চলাচল করতে পারবে।

তবে শতভাগ কাজ শেষ করে সর্বসাধারণের গাড়ি চলাচলের জন্য উপযোগী হতে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে।

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) এসব তথ্য জানান বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশিদ চৌধুরী।

এর আগে গত মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম. এ. মান্নান বলেন, একনেক সভায় চলাকালীন অবস্থায় আমরা জানতে পারলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল (কর্ণফুলী টানেল) ডিসেম্বরে খুলে দেওয়ার কথা ছিল। তবে কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় আগামী শুক্রবার খুলে দেওয়া হচ্ছে। এটা খুবই আনন্দের সংবাদ।

তিনি বলেন, আশা ছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এটি উদ্বোধন হবে। এখন আশা করা হচ্ছে, এত দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না, তার অনেক আগেই উদ্বোধন করা যাবে। তবে সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারছি না, এটা কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে।

মন্ত্রী বলেন, এটা সরকারের জন্য অবশ্যই অনেক বড় আনন্দের ব্যাপার। প্রায় সময় কথা উঠেছে, কোনো প্রকল্প সময়মতো শেষ হয় না, আগায় না। এটি একটি বড় অভিযোগ। এ প্রকল্পে তেমনটি হয়নি, সময়ের আগেই শেষ হচ্ছে। মূল কাজ এখন শেষ হচ্ছে। তবে আরো অনেক কাজ বাকি আছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, টানেলকে ঘিরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৩ দশমিক ৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মূল টানেলের সঙ্গে পতেঙ্গা এবং আনোয়ারা প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মিত হচ্ছে। সংযোগ সড়ক এবং টানেলের ভেতরের সড়ক হবে মোট ৪ লেনের। এর মধ্যে ওয়ান ওয়ে একটি টানেলে সড়ক থাকবে দুই লেনের।

একটি টিউবের সড়ক দিয়ে আনোয়ারা থেকে পতেঙ্গা অভিমুখী এবং অন্য টিউব দিয়ে পতেঙ্গা থেকে আনোয়ারা অভিমুখী যানবাহন চলাচল করবে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে প্রতিটি টিউব চওড়া ১০ দশমিক ৮ মিটার বা ৩৫ ফুট এবং উচ্চতা ৪ দশমিক ৮ মিটার বা প্রায় ১৬ ফুট। একটি টিউব থেকে অন্য টিউবের পাশাপাশি দূরত্ব প্রায় ১২ মিটার। টানেলের প্রস্থ ৭০০ মিটার এবং দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৪০০ মিটার।

বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দিচ্ছে ৪ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। বাকি ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা দিচ্ছে চীন সরকার। চীনের কমিউনিকেশন এবং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টানেল নির্মাণের কাজটি বাস্তবায়ন করছে।

নিউজ হান্ট/ম

সর্বশেষ