মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২১

বাংলাদেশকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই আমাদের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

আরও পড়ুন

বর্তমান সরকার ক্ষমতাকে জনগণের সেবা করার সুযোগ হিসেবে দেখে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই আমাদের অঙ্গীকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতার ফসল হচ্ছে এই সংসদ। জাতির পিতা যে সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন, সেই সংবিধানের ভিত্তিতে আমাদের নির্বাচন ও আজকের সংসদ।’

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। এই এগিয়ে চলার পথেও অনেক বাধা আমাদের অতিক্রম করতে হয়েছে। শত বাধা অতিক্রম করে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সামনে আরো এগোতে হবে।’

আজ বুধবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে আনা ১৪৭ বিধির প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে নিজেই প্রস্তাবটি তোলেন।

২ দিনব্যাপী সংসদে আলোচনার পর বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) এই প্রস্তাবটি সর্বসম্মতক্রমে গ্রহণ করা হবে।

‘বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা কাঠামো করে রাখা হয়েছে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৪১ সালে বাংলাদেশকে কীভাবে দেখতে চাই, সেই প্রেক্ষিত পরিকল্পনাও আমরা করে রেখেছি। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন উন্নত জীবন পায়, তাদের যেন আর কষ্ট করতে না হয়।’

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘আমরা প্রতীক্ষায় ছিলাম কখন আমাদের পিতা ঘরে আসবেন। কিন্তু আমরা বাবাকে পাই পরে। জনগণ পায় আগে। তার কাছে জনগণই ছিল সব থেকে বড়।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আকাঙ্ক্ষা ছিল দেশটাকে গড়ে তুলবেন। বাংলাদেশকে সাজাবেন যেন প্রতিটি মানুষ নাগরিক সুবিধা পায়। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তিনি মাত্র সাড়ে ৩ বছর সময় পেয়েছিলেন। দেশের উন্নয়নে তিনি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করতে শুরু করেন। একটি প্রদেশ থেকে দেশে উন্নীত করার যত আইন, নিয়ম নীতিমালা সবই তিনি করে দিয়ে যান।’

তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন দেশ চালাচ্ছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে যখন কোনো কাজ করতে যাই, দেখতে পাই প্রতিটি কাজের ভিত্তি জাতির পিতা তৈরি করে দিয়ে গেছেন। আমার কাছে বিস্ময় মনে হয় এত অল্প সময়ে কীভাবে এত কাজ করে যেতে পারেন।’

‘কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো যখন তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলছিলেন, তখন কিছু লোক মনে হয় যেন একটি অস্থিরতায় ভুগছিলেন। এ সময় নানা ধরনের কথা, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের হত্যা করা। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী সারেন্ডার করেছিল ঠিকই, কিন্তু তারা তাদের কিছু দালাল যুদ্ধাপরাধীদের রেখে যায়। তারা দেশের ভেতরে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। এত অল্প সময়ের বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রাটা তাদের সহ্য হয়নি। দেশ স্বাধীন হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াবে তা পাকিস্তানীদের দোসররা মানতে পারেনি,’ যোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যে কাজগুলি করতে চেয়েছিলেন তার জন্য যদি আর ৫টি বছর তিনি হাতে সময় পেতেন বাংলাদেশ উঠে দাঁড়াতো। আজকে যে সম্মানজনক অবস্থানে আমরা আসতে পেরেছি, জাতির পিতা বেঁচে থাকলে জায়গায় আমরা স্বাধীনতার ১০ বছরে পৌঁছে যেতে পারতাম।

তিনি বলেন, ‘যারা স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে যাক তা চায়নি, তারা এটা সহ্য করতে পারেনি। তারা নানা ধরনের অপপ্রচার করেও যখন জনগণের সহায়তা পেল না, তখনই ৭৫ এর ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমাদেরকে ভিক্ষুকের জাতিতে পরিণত করা হয়েছিল।’

করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটি মানুষ ভ্যাকসিন পেয়েছে। ভ্যাকসিনের কোনো অভাব হবে না। দেশের ৮০ শতাংশ মানুষকে আমরা ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসব।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে আধুনিক প্রযুক্তির জ্ঞান সম্পন্ন দেশে উন্নীত করতে চাই। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে সেই প্রত্যাশা করি।’

নিউজ হান্ট/আরকে

সর্বশেষ