সোমবার, অক্টোবর ১৮, ২০২১

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্ক-সুইজারল্যান্ড

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক ও সুইজারল্যান্ড। এর মধ্যে তুরস্ক রেল খাতে বিনিয়োগ করতে চায়। আর সুইজারল্যান্ডের উদ্যোক্তারা চামড়া শিল্পে বিনিয়োগের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন। রোববার রেলপথ মন্ত্রী ও শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করে দেশ দুটির রাষ্ট্রদূত এই বিনিয়োগের ব্যাপারে তাদের আগ্রহের কথা জানান।

ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান তুরান সকালে রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনের সঙ্গে রেলভবনে তার দপ্তরে সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, ‘রেল খাতে আমরা বিদেশি বিনিয়োগ খুঁজছি। বর্তমানে রেলওয়েতে অনেক প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং আগামীতে আরও অনেক প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। রেল খাতের উন্নয়নে আমাদের একটি মহাপরিকল্পনা আছে, সেটি ধরে ধরে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিচ্ছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশের রেললাইন ছিল তিন হাজার কিলোমিটার আর বর্তমানে দুই হাজার ৮০০ কিলোমিটার হয়েছে। আমাদের রেলপথ যমুনা নদী দ্বারা দুই ভাগে বিভক্ত। পশ্চিমে ব্রডগেজ আর পূর্বে মিটারগেজ। আমাদের বেশির ভাগই সিঙ্গেল লাইন। আমরা পর্যায়ক্রমে সব সিঙ্গেল লাইনকে ডাবল লাইনে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

জনগণের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন থেকেই সরকার রেলখাতে বিনিয়োগ শুরু করে।

বর্তমানে চলমান কয়েকটি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত নতুন লাইন নির্মাণ, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ, যমুনা নদীর ওপর আলাদা রেলসেতু নির্মাণ কাজ চলমান। ভাঙ্গা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

তুরস্কের রাষ্ট্রদূত বলেন, যেকোনো দেশের জন্য পরিবেশবান্ধব, সহজ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা হচ্ছে রেলওয়ে। বাংলাদেশ এবং তুরস্কের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পারস্পরিক সম্পর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতে রেল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্র নাথ মজুমদার, তুরস্ক দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর কেনান কালাইসি উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাথালি চুয়ার্ড রবিবার রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প ভবনে (শিল্প মন্ত্রণালয়) শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের সঙ্গে তার অফিসকক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে সে দেশের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানান। শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সুইস আগ্রহকে সাধুবাদ জানিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ঢাকার অদূরে সাভারস্থ ট্যানারি শিল্পনগরীতে কেন্দ্রীয়ভাবে বর্জ্য পরিশোধনাগার প্ল্যান্ট (সিইটিপি) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং এ সংক্রান্ত সব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে সুইস উদ্যোক্তাদের যেকোনো ধরনের পরামর্শ গ্রহণ করা হবে। এর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদেরও বাংলাদেশ সরকার প্রযোজনীয় সহযোগিতা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সুইস রাষ্ট্রদূত এ সময় জুরিখভিত্তিক একটি ট্যানারি শিল্প প্রতিষ্ঠানের চিঠি মন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। তিনি সরেজমিনে সাভারের ট্যানারি শিল্পনগরী পরিদর্শনের আগ্রহ ব্যক্ত করেন।

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন ১৯৭২ সাল থেকে সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, মানবিক উন্নয়ন খাতে সুইজারল্যান্ড বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এছাড়াও রসায়ন শিল্প, ওষুধ, অবকাঠামো, কারিগরি সেবা এবং ভোগ্যপণ্যখাতে সুইস বিনিয়োগ উল্লেখ করার মতো। তিনি এসব খাতে সুইস উদ্যোক্তাদের আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

বিকালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ এক দশকে প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। সুইস ফেডারেল কাস্টমস প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী ২০২০ সালে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৮১ কোটি ফ্রাঙ্ক সমমূল্যের পণ্য লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৬৮ কোটি সুইস ফ্রাঙ্ক এবং বাংলাদেশ আমদানি করেছে ১৩ কোটি সুইস ফ্রাঙ্ক মূল্যের পণ্য।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

সর্বশেষ