রবিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২১

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সীমান্তে বিএসএফের ক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে ভারতেই বিতর্ক

আরও পড়ুন

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ক্ষমতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকার তিনটি রাজ্যে সীমানার ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত গ্রেপ্তার, তল্লাশি এবং জব্দ করার ক্ষমতা পেয়েছেন বিএসএফ কর্মকর্তারা।

আসাম, পশ্চিমবঙ্গ এবং পাঞ্জাবে রাজ্য ভারত-পাকিস্তান এবং ভারত-বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার অভ্যন্তর পর্যন্ত এসব অভিযান চালাতে পারবে বিএসএফ। অনেকটা পুলিশের মতোই তল্লাশি চালাতে পারবে তারা। আগে এই আওতা ছিল ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। এর পাশাপাশি বিএসএফ নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, ত্রিপুরা, মনিপুর এবং লাদাখে তল্লাশি ও গ্রেফতার অভিযান চালাতে পারবে বলে জানা গেছে।

একই সঙ্গে গুজরাটে বিএসএফের এখতিয়ারভুক্ত এলাকা হ্রাস করা হয়েছে এবং নতুন নিয়মে অভিন্নতা আনতে সেখানকার সীমান্তের সীমা ৮০ কিলোমিটার থেকে কমিয়ে ৫০ কিলোমিটার করা হয়েছে। এছাড়া রাজস্থানে এই এলাকা আগের মতোই ৫০ কিমি রাখা হয়েছে।

মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, ত্রিপুরা এবং মণিপুরের উত্তর -পূর্বের পাঁচটি রাজ্যের জন্য কোনো সীমানা নির্ধারণ করা হয়নি। এর সাথে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে কোনো সীমানা নির্ধারণ করা নেই।

কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এই রাজ্যগুলিতে বিএসএফকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়, তাই তারা সেই অনুযায়ী কাজ করে।

এক সিদ্ধান্তে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট মন্ত্রণালয় (এমএইচএ) জানায়, সীমান্তে এলাকাজুড়ে ড্রোনে করে অস্ত্র টানার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বিএসএফ-এর আওতাধীন এলাকা বাড়ানো হয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লির এই সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিকভাবে রাজ্যগুলোর স্বায়ত্তশাসন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নী টুইট করে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক সীমানা বরাবর চলমান ৫০ কিলোমিটার বেল্টের মধ্যে বিএসএফকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়ার সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই, যা ফেডারেলিজমের উপর সরাসরি আক্রমণ। আমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অনুরোধ করছি, অবিলম্বে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন।’

এমএইচএ দাবি করে যে, ১০টি রাজ্য এবং দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে জাতীয় সুরক্ষার সাথে যুক্ত অবৈধ কার্যকলাপ রোধ করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে এটি প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক সমস্যাও উত্থাপন করতে পারে। নতুন এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ভারতের এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এনডিটিভিকে জানান, ‘রাজনৈতিকভাবে খুবই স্পর্শকাতর একটি পদক্ষেপ। বিএসএফ এর প্রধান লক্ষ্য সীমান্ত পাহারা এবং অনুপ্রবেশ ঠেকানো। সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনায় দেখা গেছে তারা লাইন পাহারা দিতে সক্ষম নয়।’

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় পুলিশ, গ্রামবাসীদের সঙ্গে বিএসএফ এর নিয়মিত বিরোধ তৈরি হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী বিএসএফ কর্মকর্তারা পশ্চিমবঙ্গ, পাঞ্জাব এবং আসামে গ্রেপ্তার ও তল্লাশি অভিযান চালাতে পারবে। এসব অভিযান চালাতে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সিআরপিসি), পাসপোর্ট আইন এবং ভারতে প্রবেশের আইন প্রয়োগ করতে পারবে।

নতুন বিজ্ঞপ্তিতে সিআরপিসির অধীনে বিএসএফের সর্বনিম্ন পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ এবং পরোয়ানা ছাড়াই ক্ষমতা ও কর্তব্য পালনের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

নিউজ হান্ট/আরকে

সর্বশেষ