সোমবার, নভেম্বর ২৯, ২০২১

বাউফলে ইউএনওর অফিসের পাশে দুই ইউপি চেয়ারম্যানের মারামারি

আরও পড়ুন

পটুয়াখালী থেকে মো: জাকির হোসেন: পটুয়াখালীর বাউফলে ইউএনওর অফিস রুমের পাশে দুই ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে দাশপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গির হোসেন ও কনকদিয়া ইউপির চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও দাশপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গির হোসেন ওই সময় উপজেলা পরিষদ ভবনের দোতালায় নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষের দিকে যাচ্ছিলেন। তখন নির্বাহী অফিসারের অফিস কক্ষের পশ্চিম পাশে ২০৮ নম্বর কক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কনকদিয়া ইউপির চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার বসা ছিলেন। তিনি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির হোসেনকে দেখে বলেন,‘ কিরে শ্যালা কই যাও? প্রতি উত্তরে তিনি বলেন, ‘দুলাভাই সামনে যাই’।

এরপর চেয়ারম্যান শাহিন চেয়ার থেকে উঠে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির হোসেনের দিকে তেড়ে গিয়ে বলেন, ‘তুই আমার কিসের দুলাভাই? এই বলে তার দুই গালে সজোরে চড় মারেন। এ সময় দুইজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও মারামারি হয়। এক পর্যায়ে চিৎকার শুনে ইউএনও মোঃ আল আমিন তার কক্ষ থেকে বের হয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং দুই চেয়ারম্যানকে দুই দিকে সরিয়ে দেন। এ নিয়ে কিছু সময়ের জন্য পরিষদ এলাকায় দুই চেয়ারম্যানের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসার পর পরিবেশ স্বাভাবিক হয়।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, ‘চেয়ারম্যান শাহিন আমার উপর হামলা করেছেন। যা পরিষদের কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা আছে। ঘটনাটি আমি মৌখিকভাবে বাউফল থানার ওসিকে জানিয়েছি। তাকে লিখিতভাবেও জানাবো। এ ছাড়াও ইউএনও স্যারের মাধ্যমে লিখিতভাবে বিষয়টি ডিসি স্যারকে জানাবো।’

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার বলেন, ‘আমি একটি পে-অর্ডার আনার জন্য উপজেলা পরিষদে যাই। তখন ওনি (চেয়ারম্যান দাশপাড়া) আমাকে দেখে তার রাসেল নামের এক অনুসারীকে বলেন, ‘ওই গুণ্ডা যায়।’ আমিও তখন তাকে মন্দ কথা বলি। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির বলেন ধর শ্যালাকে। এরপর তার অনুসারী রাসেল চাকু বের করে আমাকে আঘাত করার চেষ্টা করলে আমি কিছুটা সরে যাই। এসময় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির পিস্তল বের করলে আমি চিৎকার দিলে ইউএনও স্যার এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। সব ঘটনা সিসি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে।’

বাউফল থানার ওসি আল মামুন বলেন, ‘দুই চেয়ারম্যানই মৌখিকভাবে ঘটনাটি আমাকে জানিয়েছেন। এ ছাড়াও ইউএনর কার্যালয় থেকে আমাকে ঘটনাটি জানানোর পর আমি পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে লিখিতভাবে এখন পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ করেননি।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আল আমিন বলেন, ‘চিৎকার শুনে প্রথমে আমি মনে করেছি অফিসের বাইরে হয়তো কোন ঘটনা ঘটেছে। পরে যখন বুঝলাম আমার অফিস কক্ষের কাছে ডাকাডাকি হচ্ছে, তখন আমি গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি এবং দুই চেয়ারম্যানকে দুই দিকে সরিয়ে দেই। ঘটনাটি সত্যিই দুঃখজনক। জনপ্রতিনিধি হিসাবে তাদের এ আচরণ কাম্য ছিলনা। ঘটনাটি আমি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে জানিয়েছি।’

নিউজ হান্ট/কেএইচ

সর্বশেষ