রবিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২১

‘বিচারক কামরুন্নাহারের পর্যবেক্ষণ সিআরপিসি-সংবিধান পরিপন্থী’

আরও পড়ুন

রাজধানীর রেইনট্রি ধর্ষণ মামলার রায়ে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারের পর্যবেক্ষণ ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) ও সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আজ রোববার (১৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিচারক কামরুন্নাহারের বিচারিক ক্ষমতা রোধ করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এটা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন, বিজ্ঞ বিচারকরা প্রতিদিন রায় দেন। রায়ে কেউ সন্তুষ্ট হয়, কেউ অসন্তুষ্ট হয়। যারা ‍অসন্তুষ্ট হয়, আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি), সংবিধান অনুযায়ী তারা উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেন। সর্বোচ্চ আদালত হলো আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের সাংবিধানিক কিছু বাড়তি ক্ষমতাও আছে, সেগুলো তারা প্রয়োগ করেন। রায় দিলেই যে কোনো বিচারকের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হয় তা নয়। কারণ মেরিটের ওপরে রায় দেওয়ার ব্যাপারে তারা সম্পূর্ণ স্বাধীন।

তিনি বলেন, এখানে যে ঘটনাটি ঘটেছে একজন বিজ্ঞ বিচারক ওপেন কোর্টে রায় দেওয়ার সময় তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলেছেন, ৭২ ঘণ্টা পরে ধর্ষণ মামলা যদি কেউ করতে আসে তাহলে সে মামলাটা গ্রহণ না করতে। এটাই হচ্ছে আপত্তির জায়গা। কোনো ফৌজদারি অপরাধে মামলা করার ব্যাপারে তামাদি হয় না। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পরে মামলা হয়নি। ১৯৯৬ সালের ২ অক্টোবর এই মামলার প্রথম এফআইআর (ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) হয়, ২১ বছর পরে। তিনি সেই ক্ষেত্রে বলেছেন, ৭২ ঘণ্টা পরে মামলা নেওয়া যাবে না।

আমাদের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে পরিষ্কার বলা আছে, ‘আইনের আশ্রয়লাভ এবং আইনানুযায়ী ও কেবল আইনানুযায়ী ব্যবহারলাভ যে কোনো স্থানে অবস্থানরত প্রত্যেক নাগরিকের এবং সাময়িকভাবে বাংলাদেশে অবস্থানরত অপরাপর ব্যক্তির অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং বিশেষতঃ আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না, যাহাতে কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।’ বিজ্ঞ বিচারক যে বক্তব্য দিয়েছেন, সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আমাদের যে মৌলিক অধিকার সেটার পরিপন্থী— বলেন আইনমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ফৌজদারি অপরাধে মামলা কখনো তামাদি হয় না এবং সংবিধান অনুযায়ী যে মৌলিক অধিকার— এই দুইটাই তিনি ভায়োলেট করেছেন। এই ভায়োলেশনের তাৎপর্য হলো, অনেক রায় আছে যেগুলো হয়তো বেআইনি হয়। আপিলে গিয়ে এ রায়টা সেট অ্যাসাইড হয়। এখানে তিনি যে কথাটা বলেছেন, সেটার একটা ইমপ্লিকেশন আছে, কনসিকোয়েন্স আছে। সেই কারণে আজ বিচার বিভাগের যিনি অভিভাবক তাকে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। সেই কারণে আইনমন্ত্রী হিসেবে নির্বাহী বিভাগ থেকেও গতকাল বলেছিলাম। কারণ প্রধান বিচারপতির কাছেই আমি বিচার চাইতে পারি।

নিউজ হান্ট/আরকে

সর্বশেষ