শুক্রবার, অক্টোবর ২২, ২০২১

বিদ্যুৎখাতের উন্নয়নে বিদ্যুৎ গতি (পর্ব-১)

আরও পড়ুন

বিশেষ প্রতিবেদন:

স্বপ্ন বাস্তবায়নের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ১২ বছরে দেশের বিভিন্ন খাতে অর্জিত সফলতা ঈর্শ্বনীয়। তবে সফলতার পথে এই অগ্রযাত্রায় দেশের বিদ্যুৎ খাত রয়েছে সর্বাগ্রে। দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তিই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। ক্ষমতায় এসেই যে কারণে এই খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় বর্তমান সরকার। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণ করে বহুমুখী পরিকল্পনা। তাতে দেশের বিদ্যুৎখাতের উন্নয়নে দেখা মেলে বিদ্যুৎ গতি।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, ২০০৯ সালে কাজ শুরুর পর সরকার সফলভাবে ২০ হাজার ২৯৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম ১১৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার ২০২১ সাল নাগাদ ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে এর মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ২৫ হাজার ২৩৫ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে, যা ২০০৯ সালে ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ জনগণকে বিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎখাতের উন্নয়ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৯৯৬ সাল অবধি দেশের বিদ্যুৎখাতে বেসরকারি কোন অংশগ্রহণ ছিল না। আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর আইপিপি নীতিমালা করে উৎপাদনখাতে বেসরকারি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। পরবর্তী সময়ে বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতা গ্রহণ করে পাঁচ বছরে মাত্র একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করে। টঙ্গির এই ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণেও ঘুষ গ্রহণের মামলা রয়েছে তারেক রহমান এবং তার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে। পাঁচ বছরে মাত্র একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হওয়াতে ভয়ংকর বিদ্যুৎ ঘাটতির সৃষ্টি হয়। খোদ ঢাকায় লোডশেডিং হতো দিনে রাতে ১২ ঘন্টা। ওই সময়ে দেশের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কাজও বন্ধ করে দিতে হয়েছিল।

কেন এই সংকট সৃষ্টি হয়েছিল এবং কিভাবে এই পরিস্থিতি থেকে সরকার বেরিয়ে এসেছে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, আগে বিদ্যুৎ খাতের বিনিয়োগের জন্য সাধারণত বিশ্বব্যাংক, এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংকসহ সল্প সুদের ঋণের দিতে তাকিয়ে থাকা হতো। এরা সব সময় প্রকল্পগুলোকে দীর্ঘ সময় জন্য ঝুলিয়ে দিতো। বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের আগে নকশা প্রণয়ন, দরপত্র আর অর্থায়নে পাঁচ বছর সময় চলে যেত। তখন আমরা মনেই করতাম ওইসব দাতা সংস্থার টাকা ছাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা যাবে না। অন্যদিকে দেশের ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ দিতে আগ্রহ দেখতো না। কিন্তু ২০০৯ সালের পর এই ধারণা একেবারেই বদলে যায়। উদ্যোক্তারা দেশের ব্যাংক থেকেই ঋণ নিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শুরু করে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎখাতের উন্নয়নে শুধুমাত্র দাতা সংস্থার দিকে তাকিয়ে না থেকে বিদেশি বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া শুরু করা হয়। ফলে বিদ্যুৎখাত ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। আর একবার যখন উৎপাদন বৃদ্ধির পর দেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকে তখন বিনিয়োগকারীদের লক্ষ্য হয়েওঠে বাংলাদেশ।

‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ-ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ স্লোগান সামনে রেখেই শতভাগ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার যে বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে তার সফল বাস্তবায়ন করতে নিরলস কাজও করে চলেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদসহ সংশ্লিষ্টরা।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ জ্বালানি খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঝখানে বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের সময় আমরা অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আবার সেটি আমরা ঠিক করে এনেছি। তিনি বলেন, এসব খাতের ধারাবাহিক অগ্রগতি প্রয়োজন আমরা সে বিষয় মাথায় রেখেই কাজটি করছি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশের বিদ্যুৎ খাত। ফেলে এখন অর্থায়ন আমাদের জন্য কোন সমস্যাই নয়।

নিউজ হান্ট/ম

সর্বশেষ