সোমবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২১

বিশ্ববাজারে আরও কমেছে জ্বালানি তেলের দাম

আরও পড়ুন

বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। গতকাল শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ছিল ৭৮ ডলার। এটি গত ৬ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মূলত ইউরোপে কোভিডের প্রকোপ বৃদ্ধির কারণেই তেলের দাম কমছে।

শীত ঘনিয়ে আসায় মহাদেশটিতে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। অনেক দেশই মহামারি নিয়ন্ত্রণে আবারো লকডাউনসহ নানা কড়াকড়ি জারি করছে। ফলে ইউরোপের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গতি কমে যাবে এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে তেলের দামের উপর। এছাড়া বড় রাষ্ট্রগুলো নিজেদের রিজার্ভ থেকে বাজারে তেল ছাড়ায়ও দাম কমছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ফলে বর্তমানে গত অক্টোবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে সবথেকে কম দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হচ্ছে।

গত ৭ই অক্টোবর ব্যারেল প্রতি জ্বালানি তেলের দর ছিল ৭৯.২৮ ডলার। তবে এরপর সেই দাম বেড়ে ৮০.৫১ ডলারে পৌঁছায়। শুক্রবার সেই দাম কমে নেমে এসেছে ৭৮.৪৬ ডলারে। সম্প্রতি বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বেড়েই চলেছিল লাগাতার। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও।

তবে বাজার ঠাণ্ডা করতে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোকে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি অনুরোধ জানিয়েছিল, যাতে দেশগুলো তাদের রিজার্ভে থাকা তেল বাজারে ছাড়তে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের এ অনুরোধ রাখে চির প্রতিদ্বন্দ্বী চীনও। এতে বাজারে প্রচুর তেল প্রবেশ করায় দ্রুত নামতে শুরু করে তেলের দাম।

জ্বালানি তেলের দাম কমার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রভাবের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায় জ্বালানিবিষয়ক পরামর্শ প্রতিষ্ঠান রিস্ট্যাড এনার্জির শীর্ষ কর্মকর্তা বিজোরনার টনহাউজেনের বক্তব্য থেকে। তিনি জানান, ওয়াশিংটন ও বেইজিং নিজেদের দেশের রিজার্ভ তেল বাজারে ছেড়ে দিয়েছে। যা দাম কমাতে সহায়তা করছে। বিনিয়োগকারীরা এখন আশা করছেন, ডিসেম্বরে ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে আসবে। এটা যুক্তরাষ্ট্র ও চীন থেকেই আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবার আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার বৃহত্তর সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমেও আসতে পারে বলে জানান টনহাউজেন।

এছাড়া কোভিড সামলাতে কঠিন কড়াকড়ি আরোপ করতে শুরু করেছে ইউরোপ। পুরোপুরি লকডাউন দিয়েছে অস্ট্রিয়া। ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানিও একই পথ অনুসরণ করবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে কোভিড পরবর্তী সময়ে ইউরোপে যে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের আশা করা হচ্ছিল, তা আর সম্ভব হচ্ছে না বলেই ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। অর্থনীতির গতি বাড়লে তেলের চাহিদাও বাড়ে। কিন্তু এসব কড়াকড়িতে আবারো তেলের চাহিদা কমছে ইউরোপে।

নিউজ হান্ট/আরকে

সর্বশেষ