রবিবার, অক্টোবর ১৭, ২০২১

বিশ্ব ডিম দিবস আজ

আরও পড়ুন

আজ ৮ অক্টোবর, বিশ্ব ডিম দিবস। এবারের ডিম দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য– ‘প্রতিদিন ডিম খাই, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াই’। ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক এগ কমিশনের কনফারেন্সে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলছে প্রতিবছরের এই উদযাপন। এর উদ্দেশ্য- ডিমের খাদ্যমান ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে মানুষকে জানানো এবং স্বাস্থ্যসম্মত ডিম উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ভোক্তার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় ডিম রাখতে উৎসাহ দান।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর, বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল, ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্সেস অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা দিবসটি পালন করছে।

বাংলাদেশ ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ।  প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) লাইভ স্টক ইকোনমির তথ্য অনুসারে, গেল অর্থবছরে দেশে ডিম উৎপাদিত হয়েছে ২০ কোটি ৫৭ লাখ ৬৪ হাজার বা মাথাপিছু ১২১টি। আগের বছর ছিল ১৭ কোটি ৩৬ লাখ ৪৩ হাজার বা মাথাপিছু ১০৪টি। সে হিসাবে এক বছরে ডিমের উৎপাদন বেড়েছে তিন কোটি ২১ লাখ আর মাথাপিছু বেড়েছে ১৭টি।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) পুষ্টিমান অনুসারে, বছরে একজন মানুষকে কমপক্ষে ১০৪টি ডিম খেতে হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. শেখ আজিজুর রহমান বলেন, ‘ডিমের বাজার বড় হলেও অনেক উচ্চশিক্ষিত মানুষের মধ্যেও কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। এর সবগুলোই অমূলক। ডিমের পুষ্টিগুণ নির্ভর করে ডিমের আকার ও ওজনের ওপর। এ ছাড়া হৃদরোগের ধারণাও ঠিক নয়। ডিম নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে আমরা সেমিনার, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’

২০১৩ সালের জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিম খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রতিদিন কমপক্ষে একটি করে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ডিমের পুষ্টিগুণ:

  • একটি সম্পূর্ণ ডিমে প্রায় ৬ গ্রাম মানসম্মত প্রোটিন, ৫ গ্রাম উন্নত ফ্যাটি এসিড, ৭০-৭৭ কিলোক্যালরি শক্তি, ১০০-১৪০ মিলিগ্রাম কোলিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপকরণ থাকে।
  • ডিমের প্রোটিনে রয়েছে মানুষের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সকল অ্যামাইনো এসিড যা দেহের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি সাধনে সহায়ক।
  • ডিমের ফ্যাটি এসিডে এলডিএলের চেয়ে এইচডিএল এর অনুপাত বেশি। ফলে নিয়মিত ডিম খেলে রক্তে এইচডিএলের অনুপাত বাড়ে যা রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইডের উপস্থিতি হ্রাস করতে সহায়ক।
  • স্কাভেঞ্জিং পদ্ধতিতে পালিত মুরগির ডিমে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড বেশি থাকে যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
  • ডিমের কোলিন মস্তিস্ক কোষ গঠন ও সিগন্যালিং সিস্টেমে কাজ করে মানুষের স্মরণশক্তিকে বাড়িয়ে দেয়।
  • এছাড়াও ডিমে লিউটিন ও জেক্সানথিন রয়েছে যা চোখের দৃষ্টিশক্তিকে উন্নত করে।

নিউজ হান্ট/ইস

সর্বশেষ