রবিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শীতের পিঠা বিক্রির ধুম

আরও পড়ুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তৌহিদুর রহমান নিটল: ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন রাস্তার ফুটপাতে জমে উঠেছে নানা রকমের পিঠার ব্যবসা। শীতের আবহাওয়ায় পড়ন্ত বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে এসব দোকানে বেচাকেনা। প্রতিটি দোকানেই থাকে নানা বয়সী ক্রেতাদের ভীড়। নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত বিভিন্ন শ্রেনীর লোকজনই ভীড় জমাচ্ছেন এসব দোকানে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পিঠা খাচ্ছেন অথবা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন তাদের বাসা-বাড়িতে।

বছরের অন্য সময় শহরের দুই-তিন স্থানে ফুটপাতে ভাসমান ব্যবসায়ীরা পিঠা বিক্রি করলেও শীত পড়ার সাথে সাথেই বেড়ে যায় দোকানের সংখ্যা। বর্তমানে শহরের প্রধান প্রধান সড়কের ফুটপাত ছাড়াও পাড়া-মহল্লার মোড়ে দেখা মিলছে ভাসমান পিঠা বিক্রির দোকান।

সরেজমিনে ঘুরে এবং কথা বলে জানা যায়, মূলত শহরের নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষই তাদের প্রধান ক্রেতা। পৌর সুপার মার্কেট, সিটি সেন্টার, আধুনিক পৌর সুপার মার্কেট, কোর্ট রোড, মসজিদ রোড, হাসপাতাল রোড, কুমারশীল মোড়, সাবেরা সোবহান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক, রেলওয়ে ষ্টেশন রোড, কান্দিপাড়া মাদরাসা রোড, কাজীপাড়া জেলা ঈদগাহ ময়দান, ডাঃ ফরিদুল হুদা রোড, কাউতলী জেলা পরিষদের মার্কেটের সামনেসহ শহরের বিভিন্ন রাস্তার মোডের ফুটপাত ও শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার রাস্তার মোড়ে শীতের পিঠা বিক্রি হচ্ছে।

এসব দোকানে চিতই পিঠা, মেরা পিঠা (চোয়া পিঠা), ভাঁপা পিঠা, পোয়া পিঠা (তেলের পিঠা), পাটিসাপটা পিঠা বেশী বিক্রি হয়। ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী পিঠা তৈরী করে দেয়া হয়। চিতই পিঠার সাথে ক্রেতাদেরকে সরিষার ভর্তা ও শুটকির ভর্তা দেয়া হয়। গরম গরম পিঠা পেয়ে ক্রেতারাও দারুন খুশী। প্রতিটি বড় ভাঁপা পিঠা ১০ টাকা, চিতই পিঠা ১০ টাকা এবং ছোট সাইজের চিতই পিঠা ৫ টাকা করে বিক্রি করা হয়।

পিঠা বিক্রেতা ছিদ্দিক মিয়া জানান, প্রতিদিন তিনি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার পিঠা বিক্রি করেন তিনি। শীতকাল ব্যতীত বছরের অন্য সময়ে প্রতিদিন ৫-৬ কেজির চালের গুঁড়ার পিঠা বিক্রি হত। বর্তমানে ১০-১২ কেজি চালের গুড়ার পিঠা বিক্রি করতে পারেন। প্রতিদিন দুপুর ৩টার পর থেকে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত চলে তার বেচা কেনা। সব খরচ বাদ দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকা লাভ হয়।

আরেক পিঠা বিক্রেতা জোৎসনা বেগম বলেন, এখানে চিতই ও ভাঁপা পিঠাই বেশী বিক্রি হয়। ধনে পাতা ও কাঁচা মরিচ এবং নারকেল-খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরী ভাঁপা পিঠার চাহিদাই বেশী। অনেকেই তার কাছ থেকে পিঠা কিনে বাসা-বাড়িতে নিয়ে যান। চিতই পিঠার সাথে ক্রেতাদের চাহিদানুযায়ী সরিষার ভর্তা ও শুটকির ভর্তা দেওয়া হয়।

প্রতিদিন তিনি ৬-৭ কেজি চালের গুড়ার পিঠা বিক্রি করতে পারেন বলেও জানান জোৎসনা বেগম।

পিঠার ক্রেতা কলেজ পড়ুয়া ছাত্র মো: শাওন জানান, শীতের দিনে বাড়িতে মা-চাচীরা তাদেরকে নানা রকমের পিঠা বানিয়ে খাওয়াতেন। হোষ্টেলে থাকায় তারা সেগুলো খাওয়া থেকে বঞ্চিত।  তাই সুযোগ পেলেই তারা শহরের ফুটপাত থেকে চিতই পিঠা ও ভাঁপা পিঠা কিনে নিয়ে যান হোষ্টেলে।

আরেক ক্রেতা মোঃ শফিউল্লা বলেন, সরকারি চাকুরী করি, পরিবার-পরিজন নিয়ে ইচ্ছে করলেই গ্রামের বাড়িতে যেতে পারি না। তাই প্রায়ই ফুটপাত থেকেই পিঠা কিনে বাসায় নিয়ে যাই।

নিউজ হান্ট/এএস

সর্বশেষ