মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৬, ২০২১

ভাইরাল সেই ‘তরমুজের গুড়ের’ খোঁজে গিয়ে যা জানলো নিউজ হান্ট

আরও পড়ুন

খুলনা থেকে মো: নয়ন ইসলাম: সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ‘তরমুজ’ দিয়ে ‘গুড় তৈরি’র একটি খবর। তরমুজ দিয়ে গুড় তৈরি করেছেন খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ছোটবন্ড গ্রামের কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল। এ নিয়ে জানতে সরাসরি মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের গ্রামে যায় নিউজ হান্ট।

খেজুর, আখ, তাল বা গোলপাতা গাছের গুড়ের ব্যপারে আমরা জানি। কিন্তু তরমুজ দিয়ে গুড়! কীভাবে সম্ভব? মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল জানান, বিক্রিযোগ্য নয় এমন ছোট আকারের তরমুজ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গুড় তৈরি করে সফলতা পেয়েছেন তিনি।

তরমুজ দিয়ে গুড় তৈরি করার বিষয়টি হয়ত এখন পর্যন্ত নতুন উদ্ভাবন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রথম বারের মত তরমুজের গুড় উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কৃষক মৃত্যুঞ্জয়। এ গুড়ের নাম ‘তোগুড়’। গুড় শিল্পের জন্য তরমুজের ‘তোগুড়’ নতুন সম্ভাবনা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মৃত্যুঞ্জয় বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে তরমুজের চাষ করছি। তরমুজ চাষে সফলতাও পেয়েছি। চাষ করতে গিয়ে দেখি প্রতি বছরই মৌসুমের কিছু কিছু তরমুজ আকারে ছোট হয় (আকারে ছোট এই তরমুজ ‘ক্যাট’ নামে পরিচিত)। এই তরমুজ বিক্রি করা যায় না। অনেক সময় মাঠেই থেকে যায়। কখনও কখনও বৃষ্টিতে পঁচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। আবার কিছু কিছু মাছ ও গবাদি পশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করে থাকি।

একদিন হঠাৎ মনে হলো খেজুর ও তালের রস থেকে গুড় হয়, তাহলে তরমুজের রস থেকে কেন হবে না? এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মোসাদ্দেক হোসেনের পরামর্শ নিয়েছি। কিছু দিন আগে আমি ও আমার স্ত্রী বিক্রিযোগ্য নয় এমন ছোট আকারের তরমুজ দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে গুড় উৎপাদনের চেষ্টা করি। ২০-২৫ কেজি তরমুজ থেকে ৫-৬ কেজি পরিমাণ রস হয়। সেই রস জ্বাল করে গুড় তৈরি করি। প্রথম দফায় সফলতা আসে। এই গুড় দেখতে খেজুর গুড়ের মতো। এর স্বাদ মধুর মতো।

এলাকাবাসী যারা এই গুড় খেয়েছেন তারা জানান, গুড়টি অন্যান্য গুড়ের থেকে একটু আলাদা ধরণের। তবে খেতে সুমিষ্ট এবং সুঘ্রাণযুক্ত বলেও জানান তারা।

বাণিজ্যিকভাবে এর উৎপাদন করবেন কিনা জানতে চাইলে মৃত্যুঞ্জয় বলেন, গত দুই বছর যাবৎ এটা করছি তবে এ বছরই প্রথম ভালো সাড়া পেয়েছি এবং তোগুড় পরিচিতি লাভ করেছে। কেজি প্রতি ৩০০ টাকা দরে কয়েক কেজি গুড় তিনি বিক্রিও করেছেন বলে জানান।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, এটি কৃষিতে এক দারুণ অর্জন। আমাদের দেশের গুড় শিল্প দিন দিন সংঙ্কুচিত যাচ্ছে। একদিকে তাল ও খেজুর গাছের সংখ্যা যেমন কমছে, তেমনি সেসব গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য গাছির সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকা তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সিজনে কৃষক অনেক সময় তরমুজের ন্যয্যমূল্য পায় না এবং তরমুজের ক্যাটগুলো বিক্রিও হয় না। বাণিজ্যিকভাবে ওই তরমুজ নিয়ে গুড় তৈরি করলে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যয্য মূল্য পাবে। ফসলের অপচয়ও রোধ হবে। আগামীতে এটি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিউজ হান্ট/এএস

সর্বশেষ