শুক্রবার, অক্টোবর ২২, ২০২১

ভ্যাকসিনের সাহসে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশ

আরও পড়ুন

একটা থমথমে শহর। মার্চ-এপ্রিলের সেই শহর, যে শহরে সন্ধ্যার আগেই নামতো রাত। চারদিকে করোনাভাইরাসের ভয়। অথচ এই অক্টোবর আসতে আসতে ভয়গুলো যেন জয় করে ফেলেছে বাংলাদেশ। ভ্যাকসিন আসার পর চারদিকে শুরু হচ্ছে জয়োল্লাস। এসব সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের ‘তৃতীয় নয়নের’ কারণে। কীভাবে, সেটাই ব্যাখ্যা করছি।

করোনা আসার দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনের মতো দেশগুলো যেখানে লাশের সারি সামলাতে হিমশিম খেয়েছে, সেখানে  বাংলাদেশ কয়েক মাসেই সুস্থতার দিকে হাঁটছে। আর এখন অনেক দেশ যখন  ভ্যাকসিনের পথচেয়ে রয়েছে, তখন বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষ ভ্যাকসিনের সাহসে নতুনদিনের স্বপ্ন দেখছে!

বাংলাদেশ সরকারের এখানে ধন্যবাদটা প্রাপ্য। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

আপনি যে দলেরই সমর্থক হন না কেন, এই ধন্যবাদটুকুর বিষয়ে দ্বিমত করতে পারবেন না, যদি পৃথিবীর বাকি অংশের অবস্থার এতটুকু খোঁজ রাখেন, পড়াশোনা করেন।

করোনার সেই দিনগুলোতে একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি দেখেছি গোটা পৃথিবী কীভাবে হাহাকার করেছে। ‘লাশ রাখার জায়গা নেই ব্রিটেনে’ এমন সংবাদ পর্যন্ত আমাদের লিখতে হয়েছে। মানুষ খাবারের জন্য দিশেহারা হয়েছে, বড় বড় ব্যবসায়ী দেউলিয়া হয়ে গেছেন। অধিকাংশ শক্তিশালী দেশের প্রধানেরা সৃষ্টিকর্তার হাতে সব ছেড়ে দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সিদ্ধান্তহীনতার অভাবে অনেক দেশ অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন অর্ডার করতে পারেনি। কোন ভ্যাকসিন নেব-এই ভাবনায় তারা সময় নষ্ট করেছে। অথচ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফেব্রুয়ারিতেই ভ্যাকসিন কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন। এসব কি এমনি-এমনি হয়েছে?

মোটেও না। শেখ হাসিনা এ কারণে অন্যদের থেকে আলাদা। তিনি গভীরভাবে ভাবতে পারেন, বর্তমানে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। মানে তার অন্তর্দৃষ্টি প্রখর। ২০২০ সালের এপ্রিলে সেই দৃষ্টিতে তিনি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি দেখতে পেয়েছিলেন। বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ‘থার্ড আই’ বা ‘তৃতীয় নয়ন’।

ভ্যাকসিন কখনো রোগ সারায় না, প্রতিরোধ করে। অর্থাৎ আপনার শরীরে ভ্যাকসিন থাকলে, সংশ্লিষ্ট রোগটি আপনাকে কাবু করতে পারবে না। শরীরে ঢুকলেও অন্যকে আক্রান্ত করতে পারবে না। তাই সবার ভ্যাকসিন নেয়া উচিত। নিজের জন্য না হলেও, পরিবারের জন্য।

ভ্যাকসিন এভাবে রোগ না সারালেও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। মনের ভয় ‘সারাচ্ছে’। বিশেষ করে ব্যবসায়ীরা প্রাণ ফিরে পাচ্ছেন। সামনের কয়েক মাসে বিনিয়োগের জোয়ার ডাকবে। যে উদ্যোক্তারা এতদিন করোনার ভয়ে ঘরে বসে ছিলেন, তারা বাণিজ্যের মাঠে নামতে শুরু করেছেন।

এত কিছুর পরেও আমাদের চিন্তার জায়গা আছে। সামনে আরও অনেক ভ্যাকসিন আসবে। সেসব যেন এখনকার মতো সুন্দর ব্যবস্থাপনায় দেয়া যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শাহেদদের মতো লোকেরা সুন্দর এই কার্যক্রম যেন নোংরা করতে না পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে কঠোরভাবে। অনেক উদ্যোক্তা পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন, তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি খাতে প্রাণ ফেরাতে হবে।

কয়েক মাসের ভেতর পৃথিবী নতুন করে ঝাঁপিয়ে পড়বে। ছুটতে হবে বাংলাদেশকেও।

এ লড়াই বাঁচার লড়াই, এ লড়াই জিততে হবে।

সর্বশেষ