রবিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২১

মিয়ানমারে স্কুল খুললেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

আরও পড়ুন

দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর খোলা হলেও মিয়ানমারের স্কুলগুলো এখনো প্রায় খালিই পড়ে আছে। কারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা কেউই ক্লাসে ফিরতে রাজি নয়।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাগো রাজ্যের পায়াই শহরের ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী চিকা কো(ছদ্মনাম) জানায়, সম্প্রতি বেশ কিছু স্কুলে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আমার কোনো বন্ধুই এখন স্কুলে যাচ্ছে না। আমার স্কুলে এখনো এমন কোনো হামলা হয়নি, কিন্তু বিস্ফোরণের শব্দে ভয় পেয়েছি।

চিকা কো জানায়, তার স্কুলে ৬০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে, কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে সেখানে মাত্র ২০ জন মতো শিক্ষার্থী দেখা গেছে।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে জুলাই মাসে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে ১ নভেম্বর থেকে আবার স্কুল খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয় সেনাবাহিনী। কিন্তু চিকা কোর মতো আরও অনেক শিক্ষার্থীই স্কুলে ফিরতে চায় না। কারণ তারা এই বছরের ফ্রেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা দখল করা জেনারেলদের প্রতিবাদ জানাতে চায় এবং তারা ভয় পায় হয়তো আক্রমণের বিষয়বস্তু হয়ে যাবে তারা।

ইয়াংগুনের ৪৮ বছর বয়সী এক অভিভাবক নেই জিন ও(ছদ্মনাম)। তার এক সন্তান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে এবং দুই জন পড়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। কিন্তু সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেওয়ার পর তাদের কাউকেই আর স্কুলে পাঠাননি তিনি।

ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, সেনাবাহিনী এখন স্কুল চালাচ্ছে। বিপ্লবের অংশ হিসেবে আমি আমার একটি সন্তানকেও স্কুলে পাঠাবো না। আমরা যদি সন্তানদের স্কুলে পাঠাই তাহলে মনে হবে আমরা সেনাবাহিনীকে সমর্থন করছি। যদি অন্য কোনো দল জয়লাভ করে তাহলে তাদের স্কুলে পাঠাবো।

তিনি বিশ্বাস করেন, স্কুল বর্জন করা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিবাদ। ২০২০ সালের নভেম্বরে জয়লাভ করা বেসামরিক সরকারকে ফেরাতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারে সেনাঅভ্যুত্থানের পরে নভেম্বরের এক তারিখেই প্রথম স্কুলে কম উপস্থিতি দেখা গেছে এমন নয়। সেনাঅভ্যুত্থানের সময় করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বেশিরভাগ স্কুলই বন্ধ ছিলো। পরে জুনের ১ তারিখে স্কুল খোলা হবে বলে ঘোষণা দেয় সেনাবাহিনী। সেই সময়ও খুব কম শিক্ষার্থী স্কুলে ফিরেছিলো।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মিলে প্রথম মিয়ানমারে সেনাবিরোধী আইন অমান্য আন্দোলন(সিডিএম) পরিচালনা করে। তারা ক্লাস বয়কট করে এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনে সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। জুনের মধ্যে মিয়ানমারের ৪ লাখ শিক্ষকের অর্ধেকই সিডিএমে যোগ দেওয়ার জন্য ধর্মঘট শুরু করে। সেই সংখ্যাটা এখন আরও বেড়েছে। তবে সিডিএম বন্ধ করে আবার শিক্ষকদের ক্লাসে ফিরতে চাপ দিচ্ছে সেনাবাহিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসিক এডুকেশন ইউনিয়নের একজন নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, অনেকে চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন আর অন্যরা মনে করছেন স্কুলে ফেরা ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই।

নিউজ হান্ট/আরকে

সর্বশেষ