সোমবার, নভেম্বর ২৯, ২০২১

মেয়র পদও হারাতে পারেন জাহাঙ্গীর

আরও পড়ুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদের নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে দলটির গাজীপুর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে।

একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের মীমাংসিত ইস্যুতে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। তাতে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদও হারাতে পারেন জাহাঙ্গীর আলম।

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ ইঙ্গিত দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আইনানুগ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সভায় যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা অফিসিয়ালি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সবাই একবাক্যে তার (জাহাঙ্গীর আলম) বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার হলে সেক্ষেত্রে স্থায়ী-অস্থায়ীর প্রশ্ন থাকে না। বহিষ্কার, (মানে আজীবন) বহিষ্কারই।

বক্তব্য সুপার এডিটেড দাবি করেছিলেন, যাচাই-বাছাই করেছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, মিটিং তো অনেক দিন পরে হয়েছে। কাজেই আমাদের পার্টি, আমাদের পার্টির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও এই বিষয়টি ভালোভাবেই খোঁজ-খবর নিয়ে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যাচাই-বাছাই করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গাজীপুরের পুরো কমিটি থাকবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, একজনের জন্য কি পুরো কমিটি ভেঙে যায়?

গত ২২ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গির আলমের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন।

চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল এবং রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়েও নানা আপত্তিকর মন্তব্য করেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এবং বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তীব্র সমালোচনার মুখে পরে আরেকটি ভিডিও বার্তায় মেয়র দাবি করেন, ফেসবুকের ভিডিওটি সুপার এডিট করে প্রচার করে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করা হচ্ছে।

ফেসবুকে তার এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ করেন গাজীপুর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে মেয়র জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। একই দিন টঙ্গী স্টেশন এলাকায় রেললাইনে আগুন দেন বিক্ষুব্ধরা।

বিষয়টি নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে পড়ে গাজীপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

এ ঘটনায় গত ৩ অক্টোবর মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে শোকজ করে আওয়ামী লীগ। ১৫ দিনের মধ্যে তাকে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়।

মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

নিউজ হান্ট/ম

সর্বশেষ