শুক্রবার, অক্টোবর ২২, ২০২১

রাজশাহী হাসপাতাল চত্বরে পাখি হত্যার প্রমাণ মিলেছে

আরও পড়ুন

রাজশাহী থেকে মীর তোফায়েল হোসেন: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরের গাছ কেটে পাখি হত্যার প্রমাণ পেয়েছে বন বিভাগের তদন্ত কমিটি। গত সোমবার তারা বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষকের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছে।

গত ৪ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে ড্রেন নির্মাণের জন্য একটি অর্জুনগাছ কাটা হলে উড়তে না শেখা শতাধিক পাখির বাচ্চা মাটিতে পড়ে যায়। এতে কিছু পাখি সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। আর কিছু পাখির বাচ্চা খাওয়ার জন্য শ্রমিক ও রোগীর স্বজনেরা নিয়ে যান।

এর প্রতিবাদ জানিয়ে রাজশাহী, বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলা ও উপজেলায় পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এ ঘটনায় বন বিভাগ বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।

কমিটির সদস্যসচিব হচ্ছেন বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রাজশাহীর বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রাহাত হোসেন। সদস্য হচ্ছেন রাজশাহী সামাজিক বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মেহেদী হাসান।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, এই কমিটির সদস্যরা গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় হাসপাতালের গ্যারেজ ও ড্রেনের নির্মাণকাজ চলমান পেয়েছেন। তারা হাসপাতালের পরিচালক স্বাক্ষরিত ৩৭টি গাছ নিলাম বিক্রির জন্য দরপত্রের কপি দেখেছেন।

নির্মাণ শ্রমিকরা বলেছেন, ঘটনার দিন একটি কড়ই ও একটি অর্জুনগাছ কাটা হয়। এ দুটি গাছের পাখির বাসাগুলো গাছের সঙ্গে পড়ে যায়। ডালপালার আঘাতে ৬০ থেকে ৮০টি পাখির বাচ্চা পড়ে যায়। কিছু মারা যায়, কিছু নির্মাণ শ্রমিক ও বহিরাগত মানুষ নিয়ে যান। কমিটি ঘটনার দিন দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য মাসুদ সাহাদাৎ ও বিল্লাল হোসেনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

তবে তারা বলেছেন, তারা ঘটনার সময় ছিলেন না। পরে তারা অন্য মাধ্যমে গাছকাটা ও পাখির বাচ্চা মারা যাওয়ার বিষয়টি জেনেছেন।

কমিটির আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান বলেন, তারা যা দেখেছেন, প্রতিবেদনে তাই বলেছেন। কোনো সুপারিশ করেননি।

বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোল্যা রেজাউল করিম বলেন, তিনি তদন্ত প্রতিবেদনের কপি হাতে পেয়েছেন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি তা প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় রাজশাহী বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পক্ষ থেকে বন্য প্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বাদী হয়ে বন্য প্রাণী হত্যা করে আবাসস্থল ধ্বংসের আনুমানিক ক্ষতি এক কোটি টাকা এবং পরিবেশের আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ দুই কোটি টাকা উল্লেখ করে রাজশাহী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। তবে কারও নাম উল্লেখ নেই।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

সর্বশেষ