সোমবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২১

‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে না ফেরালে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে বিশ্ব’

আরও পড়ুন

রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে ফেরাতে না পারলে বাংলাদেশ থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত প্যারিস শান্তি সম্মেলনে তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই সতর্কবার্তা শুনান।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৭ সালের অগাস্টে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় দিয়ে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংকট এড়াতে সহায়তা করেছে। তাদের মধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। এসব মানুষের দ্রুত মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে বিশ্বকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। তা নাহলে এ সংকট থেকে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকি শুধু আমাদের সীমান্তে আবদ্ধ থাকবে না। আমরা এর মধ্যেই তার আলামত দেখেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে অবশ্যই সবার জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধির অঞ্চল হতে হবে। এই অঞ্চলের জন্য আমাদের লক্ষ্য হলো- একে অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।

তিনি আরো বলেন, এই অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান যারা রাখে তাদের উচতি হবে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমঝোতার ভিত্তিতে সকল অংশীদারের সঙ্গে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার উন্নয়নে ফ্রান্স অন্যন্য অবদান রাখছে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, যে ধরিত্রীকে আমরা আমাদের ঘর বলি, তা উত্তর ও দক্ষিণে বিভাজিত না থাকুক। ‘এক ধরিত্রীর’ নাগরিক হিসেবে সকলের সহমর্মিতা, মানবতা ও বৈচিত্র্য দিয়ে বিশ্বের এই ঐক্যকে এগিয়ে নেবার আহ্বাণ জানান তিনি।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের অক্টোবর ও ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে আবার নতুন করে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণের উদ্দেশ্যে অনুপ্রবেশ করে।

বর্তমানে কক্সবাজার জেলার উখিয়া, কুতুপালং ও টেকনাফ উপজেলাসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রায় ১১ লাখের অধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছে। এক লাখের অধিক রোহিঙ্গার জন্য ভাসানচরে তৈরি করা হয়েছে সবচেয়ে বড় আধুনিক অস্থায়ী ভিত্তিতে আবাসন ব্যবস্থা।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে তথাকথিত আরসা নাটকের মাধ্যমে রোহিঙ্গানিধন শুরু হলে পরবর্তী কয়েক মাসে দফায় দফায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের মতো বাংলাদেশ তখন সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গা জাহাজকে ফের সাগরে ঠেলে দিতে পারেনি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছিল শেখ হাসিনার সরকার।

এছাড়া গত ৫০ বছরে আরও তিন দফায় প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে ঢুকেছে। সবমিলিয়ে বাংলাদেশে এখন সাড়ে এগারো লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। প্রতিবারই সহিংসতা এড়াতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুকলেও এসব সহিংসতা ও নিপীড়নের অভিযোগ সবসময়ই অস্বীকার করে গেছে মিয়ানমার সরকার।

নিউজ হান্ট/ম

সর্বশেষ