সোমবার, অক্টোবর ১৮, ২০২১

লক্ষ্মীপুরে আইজিপির অর্থায়নে গণকবর ও মসজিদ নির্মাণ

আরও পড়ুন

লক্ষ্মীপুর থেকে আমজাদ হোসেন আমু: মেঘনার ভাঙনে কবলিত ভিটে-মাটি হারা ভূমিহীন হাজার পরিবারের জন্য নির্মিত হয়েছে গণকবর ও মসজিদ। লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউপি’র চর মনসা গ্রামে এ গণকবর ও মসজিদ নির্মিত হয়। বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ এর নিজস্ব উদ্যোগে প্রায় ২৯ শতাংশ জমির উপর এটি নির্মাণ করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড.বেনজীর আহমেদ কবর ও মসজিদের নামফলক উন্মোচন করেন।

এসময় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক ড.বেনজীর আহমেদ, বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির সভানেত্রী জীশান মির্জা, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ড.আনোয়ার হোসাইন, জেলা পুলিশ সুপার ড. এএইচএম কামরুজ্জামান, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জেলা প্রতিনিধি ও লক্ষ্মীপুর২৪ এর সম্পাদক সানা উল্লাহ সানু, ভূমিহীনদের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, পুলিশের সদর দপ্তর এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন।

পুলিশ মহাপরিদর্শক ড.বেনজীর আহমেদ বলেন, ভূমিহীনদের জন্য গণকবর ও মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। মানুষে পাশে থাকতে হবে। মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে হবে। লক্ষ্মীপুরে ভূমিহীন মানুষের কোন কবর নেই। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যমে দেখে খারাপ লাগলো। পরে সম্পূর্ণ নিজের অর্থায়নে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের আয়োজনে জমি ক্রয় করে গণকবর এ মসজিদ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হয়। এখানে সবার অধিকার থাকবে। যাদের নিজস্ব কোন কবর দেয়ার জায়গা নেই। তারা সবাই তাদের আত্মীয়স্বজন মারা গেলে কবর দিতে পারবেন। এই গণকবর ও মসজিদ সবার জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হল।

তিনি আরও বলেন, মিডিয়া জনগণের মুল শক্তি। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে এখানে গণকবর ও মসজিদ নির্মাণ করা হয়। গণকবর ও মসজিদের বিষয়ে তার সহধর্মিনী জীশান মির্জার অবদান রয়েছে। তিনি সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছে।

প্রসঙ্গত, মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে গত দুই যুগেরও বেশী সময় ধরে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলার প্রায় অর্ধেক বিলীন হয়ে যায়। নদীতে ভিটে-মাটি হারানো প্রায় দুই হাজার পরিবার এখন রামগতি-লক্ষ্মীপুর সড়কের আশে-পাশে বসবাস করছে।

সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ থেকে কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকা পর্যন্ত ০৮ কি.মি. এলাকায় সড়কের দু’পাশে জরাজীর্ণ অস্থায়ী ঘর তুলে কোনমতে বসবাস করছে। কোনমতে জীবনের তাগিদে বেঁচে থাকার পরও জীবন সন্ধিক্ষণে মহাবিপদ পরিলক্ষিত হচ্ছে। বসবাসে থাকা মানুষগুলোর আপনজন মারা গেলে মৃতদেহ দাফনে নেই কোন ধরনের জায়গা বা কবর।

মৃতদেহ নিয়ে কান্নাকাটির চেয়ে হতাশায় ভোগে কবরস্থ করতে। কোথায় করব দিবে, কার জায়গায় কবর দিবে..? এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে জরাজীর্ণ বসবাস করা মানুষগুলো। মৃতদেহ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে গেছে কিন্তু দাফন হয়নি। বসবাসরত মানুষগুলোর নির্মম পরিস্থিতি দেখে উদ্যোগ নেন বাংলাদেশ পুলিশ (বিপিএম) ড.বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী জীশান মির্জা। তারা নিজস্ব অর্থায়নে কবরস্থানের পাশাপাশি মসজিদ নির্মাণ করে দেন।

স্থানীয়রা জানান, নদী ভাঙা মানুষে কথা চিন্তা করে পুলিশের আইজিপির উদ্যোগে ভূমিহীন সর্বহারা মানুষগুলোর জন্য গণকবর ও মসজিদ নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। নদী ভাঙনে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া ২ হাজার পরিবার পুলিশের পক্ষ থেকে উপহারটি পাওয়ায় খুব খুশি।

ভূমিহীনরা জানান, স্বজন হারানোর বেদনার চেয়েও বেশি চিন্তা ছিল কবর দেয়া। মৃত্যুর পর অনেক সময় মরদেহ নিয়ে কয়েক ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। কোথায়, কার জমিতে মরদেহ দাফন করা যাবে, তা নিয়ে সবসময় অস্থিরতা কাজ করত। কারো মৃত্যু হলে শুরু হয় এদিক-ওদিক ছোটাছুটি। নিজস্ব কবরে অন্য কাউরে কবর দিতে অনীহা প্রকাশ করা। এতে করে নদী ভাঙা মানুষ গুলোর শেষ যাত্রা হয় বিড়ম্বনার। আল্লাহ রহমতে এখন আর কোন সমস্যা নেই। পুলিশের সবাইকে ধন্যবাদ জানান তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদ, গণকবরের পাশাপাশি সেখানে গভীর নলকূপ, মরদেহ ধোয়ার ঘর ও শৌচাগার রয়েছে। প্রধান সড়ক থেকে গণকবরে যাওয়ার জন্য রাস্তাও সংস্কার করা হয়েছে।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

সর্বশেষ