রবিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২১

লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত

আরও পড়ুন

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের বুড়িরহাট সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১২ নভেম্বর) ভোরে এই ঘটনা ঘটে। দুই জনের লাশ ভারতের অভ্যন্তরে পড়ে আছে।

নিহতরা হলেন-উপজেলার লোহাকুচি এলাকার মালগড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে মো. ভাষানি (৪০) ও একই এলাকার মুসলিম উদ্দিনের ছেলে মো. ইদ্রিস আলী (৪২)। ঘটনার পর থেকে গুলিবিদ্ধ দুজনের মরদেহ ভারতের অভ্যন্তরে পড়ে আছে বলে জানা গেছে।

বিজিবি ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, ওই সীমান্ত দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি ভারতের অভ্যন্তরে গরু আনতে যান। ভোরে গরু নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করার সময় টহলরত ভারতীয় কোচবিহারের ৭৫ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন সাতভান্ডারিয়া ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এতে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।

গোড়ল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহামুদুল ইসলাম বলেন, গরু আনতে ভারত সীমান্ত অতিক্রম করলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে ঘটনাস্থলে নিহত হন তারা।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, স্থানীয়রা বিষয়টি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

আজ শুক্রবার ভোরে বিএসএফের গুলি চালানোর ঘটনায় ভারতের সিতাইয়ের সাতভান্ডারি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, প্রথমে প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় তাঁরা গুলি চালাতে বাধ্য হন। ঘটনাস্থলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। তবে স্থানীয় সূত্রে, একজন ভারতীয়র মৃত্যু সংবাদ পাওয়া গিয়েছে। এতে তাইসাতভান্ডারির মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছেন।

বিএসএফের তরফে জানানো হয়, তাদের কাছে আগেই গরু পাচার নিয়ে গোয়েন্দা রিপোর্ট ছিল। তাই গতকালই সতর্ক করা হয়েছিল বিজিবি-কে। তারপরও পরিস্থিতি এড়ানো যায়নি।

বিএসএফের জনসংযোগ কর্মকর্তা কৃষ্ণ রাও বলেন , বাংলাদেশি গরু পাচারকারীদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতেই তাঁরা গুলি চালান। এই ঘটনায় একজন বিএসএফ সেনা আহত হয়েছেন।

ভারতে বিএসএফের দায়িত্ব বৃদ্ধি করা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এখন শুধুমাত্র সীমান্ত এলাকাতেই তাদের যাবতীয় কার্যকলাপ থাকলেও ভারত সরকার সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত তল্লাশি ও অভিযানের ক্ষমতা দিচ্ছে বাহিনীটিকে। এই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

পশ্চিমবঙ্গসহ একাধিক সরকার বিএসএফের এই অতিরিক্ত ক্ষমতার বিরোধী। কংগ্রেস শাসিত পাঞ্জাব ইতিমধ্যেই বিএসএফের হাতে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার বিরুদ্ধে বিধানসভায় একটি প্রস্তাব পাস করেছে।

পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজই পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লা। তাঁর কাছে বিএসএফের কাজকর্ম নিয়ে আপত্তি জানাতে পারে পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

নিউজ হান্ট/ম

সর্বশেষ