রবিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২১

শুকায়নি সিডরের ক্ষত, দাবির বাঁধে নির্মাণ শেষের আগেই ভাঙন

আরও পড়ুন

বাগেরহাট থেকে রুহুল আমিন বাবু: আজ সেই ভয়াল ১৫ ই নভেম্বর। ২০০৭ সালের এই দিনে ভয়াল ঘূর্ণিঝড় সিডর আঘাত হেনেছিল দেশের বিভিন্ন উপকূলসহ বাগেরহাটের শরণখোলার সাাউথখালীতে। বলেশ্বর নদীর পাড়ের বেড়িবাঁধ ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয়ে জলোচ্ছ্বাসে মারা গিয়েছিল প্রায় দুই হাজার মানুষ।

সে সময়ে এলাকাবাসীর দাবি ছিল ‘ত্রাণ চাই না টেকসই বেড়ি বাঁধ চাই’। দীর্ঘদিন পরে সেই বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুরু হলেও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে না হতেই বেড়িবাঁধের বিভিন্ন জায়গায় ধসে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি বেড়ীবাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি নদী শাসন করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে,ভেঙে যাওয়া স্থানে মেরামত করা হবে। আর নদী শাসনের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে সিডর নামের মহা প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে চরম আঘাত হানে বাগেরহাটসহ উপকূলীয় জনপদে। ২৪০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার বাতাসের গতি বুঝে উঠার আগেই সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বলেশ্বর নদীর সাউথখালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে। এ সময় শুধু শরনখোলার সাউথখালীতে ৯ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর সরকারিভাবে প্রকাশ হলেও বেসরকারি মতে এর সংখ্যা ছিল প্রায় ২ হাজার।

বেঁচে থাকা হত দরিদ্র পরিবারগুলোর জীবনের নিরাপত্তার জন্য একটাই দাবি ছিল- টেকসই বেড়িবাঁধ। এক যুগ পরে তা নির্মাণ হলেও নদী শাসন না করার ফলে নির্মাণাধীন বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। এই অবস্থায় এলাকাবাসী আতংকে দিন কাটাচ্ছে। বলেশ্বর নদীর করাল গ্রাসে ভিটে মাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে হাজারো পরিবার।

৬৩ কিলোমিটার লম্বা ৬৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দের বাঁধের কাজ ৫ বছর আগে শুরু করলেও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে না হতেই বেড়িবাঁধের বিভিন্ন জায়গায় ধসে যাচ্ছে। এলাকাবাসীর দাবি বেড়িবাঁধ টেকালে স্রোতস্বিনী বলেশ্বর নদী শাসন করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে ভেঙে যাওয়া স্থানে মেরামত করা হবে। আর নদী শাসনের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে ।

২০১৬ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের কাজ চলতি বছর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আগামী জুন পর্যন্ত তা বাড়ানো হয়েছে।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

সর্বশেষ