বুধবার, ডিসেম্বর ১, ২০২১

সচিবের সমালোচনা হোক, প্রশংসাও করুন

আরও পড়ুন

অমৃত মলঙ্গী: ‘করোনা আক্রান্ত মায়ের সেবায়’ ২৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব রওনক মাহমুদ-এমন খবর দেখার পর আমার মনে একটা প্রশ্ন জেগেছিল। মায়ের সেবা করার জন্য সচিবের আত্মীয়-স্বজন কেউ কি নেই? উত্তর খুঁজতে মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটে গিয়ে ভুল ভেঙেছে।

করোনা ওয়ার্ডে গিয়ে দেখি ওই মায়ের পাশে বসে আছেন এক নারী। তিনি ফোনে কথা বলছেন, ‘আমরা সব বউয়েরা ভাগ করে করে হাসপাতালে আছি। অন্য মানুষও আসছে।’

ফোনে কথা বলতে বলতে ওই নারী আমাকে খেয়াল করেননি। পেছন থেকে ডাকার পর তিনি দেখতে পান। এরপর সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা শুরু করি। এক ফাঁকে অনুমতি নিয়ে ছবিও (রোগীকে আড়াল করে) তুলি।

ওই নারী বলছিলেন, ‘সচিবরা ৫ ভাই। একজন মারা গেছেন। আমরা বাকি চার বউ শাশুড়ির দেখভাল করছি। সকালে-বিকেলে থাকছি।’

এর আগে চ্যানেল ২৪’র প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অসুস্থ মায়ের সেবায় ২৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন সচিব।’ প্রতিবেদনটিতে সংশ্লিষ্ট একজনের বক্তব্যে বলা হয়েছে, তারা হাসপাতালে ‘ডিউটি’ করেছেন। তালিকায় নাম থাকা কয়েক জনকে আমিও ফোন করেছি। কিন্তু কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। একজন তো এভাবে জবাব দেন, ‘আপনার সঙ্গে কি আমার ডিউটি?’ পরক্ষণে বলেন, ‘না, আমাকে অফিস থেকে কিছু বলা হয়নি। আমি অফিসেই আছি।’

পুরো ঘটনাটি রওনক মাহমুদ অস্বীকার করলেও তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন। কিন্তু বিষয়টি তিনি অন্যভাবে সামলাতে পারতেন।

হাসপাতালে গিয়ে মনে হয়েছে, অফিসের লোকদের তার প্রয়োজনই ছিল না। নার্সদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, অনেক মানুষ তার মায়ের জন্য হাসপাতালে যাওয়া-আসা করছেন। আলাদা জায়গায় রাতে থাকছেনও।

সচিবের মা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন-এই প্রার্থনা। তিনি এখন ‘আগের চেয়ে’ বেশ ভালো। কেউ দেখতে গেলেই সাড়া দিচ্ছেন। আমাকে দেখে তো হাত নেড়ে কাছে ডেকেছেন। আমি কে-পুত্রবধূকে বারবার সেই প্রশ্ন করেছেন।

ছেলেমেয়ে শিক্ষিত হয়ে বড় চাকরি করার পর মা-বাবাকে ভুলে যান, এই উদাহরণ আমাদের সমাজে নেহাত কম নয়। সেখানে সচিব রওনক মাহমুদ ‘পৃথিবী যেমন চায়’ তেমন ঘরানারই তো মানুষ।

আরো দেখুন – 

তাই বলে তিনি তার অধীনস্থদের এভাবে হাসপাতালে পাঠাতে পারেন না-এ কথা স্বীকার করতেই হবে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি চিঠিতে ‘অনুরোধ করা হলো’ জাতীয় কথা লেখা দেখা গেলেও সার্বিক ভাষায় প্রাতিষ্ঠানিক নির্দেশের ছাপ স্পষ্ট।

করোনা ওয়ার্ড থেকে ফিরতে ফিরতে ওই বৃদ্ধা মায়ের হাতের ইশারা দেখে আমার মায়ের মুখ ভেসেছে আমার চোখে- রওনক মাহমুদের মতো আমি যদি ডেঙ্গু আক্রান্ত থাকতাম, ঠিক তখন আমার মা যদি করোনায় আক্রান্ত হতেন!

সৃষ্টিকর্তা না করুক…।

 

(প্রিয় পাঠক, নিউজ হান্টকে অপরাধ বিষয়ক তথ্য দিতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনার কথা শুনবেন সাংবাদিক অমৃত মলঙ্গী। ফেইসবুক আইডি: https://www.facebook.com/amritomalangy/ )

সর্বশেষ