বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২০, ২০২২

সব শর্ত পূরণের পরও এমপিও বঞ্চিত, মানবেতর জীবন ডিগ্রি শিক্ষকদের

আরও পড়ুন

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ চেয়ে রিট

কুমিল্লার একটি বিদ্যালয়ের সব শিক্ষকের করোনা শনাক্ত

বিধি মোতাবেক সব শর্ত পূরণের পরও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এর উদাসীনতায় এমপিওভুক্ত হতে পারেননি কয়েকশ ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষক। সবকিছু ঠিক থাকার পরও তালিকায় নাম না ওঠায় হতাশ হয়ে পড়ছেন তারা। দ্রুত এমপিওভুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এসব শিক্ষক।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি ডিগ্রি কলেজে বিধি-মোতাবেক ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষক পদে নিয়োগকৃতদের এমপিওভুক্তির (বেতন ভাতার সরকারি অংশ) দাবিতে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। রোববার মাউশির ১ নং গেটের সামনে এমপিও ভুক্তির তালিকায় বাদ শিক্ষকদের সংগঠন ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষক ফেডারেশনের ব্যানারে এ মানববন্ধন করেন তারা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা বলেন, ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষকদের দাবির প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির আন্তরিকতায় বিধি মোতাবেক ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর তারিখের মধ্যে নিয়োগকৃত শিক্ষকদের এমপিও ভুক্তির সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে মোতাবেক গত ৭ নভেম্বর ২০২১ এমপিওভুক্তির নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত দিয়ে ৭৭০ জন তৃতীয় শিক্ষকের নামের তালিকা প্রকাশ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। কিন্তু এই তালিকায় এমপিওভুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে নানা ধরনের ভুল ও অসঙ্গতিপূর্ণ শিক্ষকদের নাম প্রকাশ করা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অসচেতনতা ও উদাসীনতায় সব ধরনের শর্ত পূরণ থাকা সত্ত্বেও এমপিওভুক্তির ওই তালিকায় দেশের বিভিন্নস্থানের প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে বছরের পর বছর বিনা বেতনে চাকরি করা এসব শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হতে না পারায় চরম হতাশায় রয়েছেন। তারা অনতিবিলম্বে এই ভুলে ভরা অসঙ্গতিপূর্ণ ৭৭০ জনের তালিকা বাতিল করে বিধি-মোতাবেক ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে নিয়োগকৃত সকল তৃতীয় শিক্ষককে এমপিওভুক্তির দাবি জানান।

শিক্ষকরা জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রকাশিত তালিকায় বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। এ তালিকায় একই শিক্ষকের নাম একাধিকবার প্রকাশ, ইতোপূর্বে সমন্বয়ের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্ত, অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক, ননএমপিও ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক, সদ্য জাতীয়করণকৃত কলেজ শিক্ষকের নাম অন্তর্ভুক্তিসহ বিভিন্ন অসঙ্গতি দেখা গেছে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষক ফেডারেশনের সমন্বয়কারী মোছা. বুলবুলি আক্তার ও ফরহাদ হোসেন তাদের বক্তব্যে বলেন, আমরা ইতোপূর্বে এই অসঙ্গতিপূর্ণ তালিকা বাতিল করে সংশোধনী তালিকার মাধ্যমে বাদ পড়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়ে শিক্ষক সচিব ও মাউশি’ মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছি। আমরা চাই বিধি মোতাবেক ২০১০ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল ডিগ্রি তৃতীয় শিক্ষক যেন এমপিওভুক্ত হতে পারেন। দীর্ঘ ৮-১০ বছর বিনা বেতনে চাকরি এবং মানবেতর জীবনযাপন করছি। পরিবার-পরিজনের মুখে দুবেলা দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে পারি না। এমপিওভুক্তির তালিকাটি সংশোধনপূর্বক বাদ পড়া শিক্ষকদের তালিকাভুক্তির জন্যে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষক আব্দুল আলীম, এস এম হোসেন আলী, মোঃ মিজানুর রহমান, আব্দুল হান্নান প্রমুখ।

তালিকায় যে সকল অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি তাদের:
এমপিওভুক্তির জন্য মনোনীত ৭৭০ জন শিক্ষকের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে- ৬,৭,৮ ও নং তালিকায় প্রকাশিত ৪ জন শিক্ষকের নাম পুনরায় ৫৫২ থেকে ৫৫৫ নং তালিকায় রয়েছে। একই তালিকায় ময়মনসিংহের পুলবাড়ীয়া কলেজের ৭ জন শিক্ষকের নাম ৬৫ থেকে ৭১ নং তালিকায় থাকলেও পুনরায় তাদের নাম ৭২ থেকে ৭৮ নং তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও ২১৭ থেকে ২২৩ পর্যন্ত তালিকার শিক্ষকদের আবারও ২২৪ থেকে ২৩০ নং তালিকায় রয়েছে। একই তালিকার ৭৪৪ থেকে ৭৪৭ পর্যন্ত শিক্ষকদের নাম দ্বিতীয় বারের মত ৭৫০ থেকে ৭৫৩ নং তালিকা রয়েছে। তালিকায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষক, সদ্য জাতীয়কৃত কলেজের শিক্ষকদের নাম, সমন্বয়কৃত শিক্ষক, ২০১৭ সালে কমিটির মাধ্যমের নিয়োগকৃতও রয়েছে।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

সর্বশেষ

বিদায় নিচ্ছেন সানিয়া মির্জা

করোনায় একদিনে বিশ্বে ৩২ লাখ শনাক্ত

সন্তান ধারনে এইডস আক্রান্ত নারীর ঝুঁকি অনেক বেশি

কর্মবিরতির হুমকি রেল কর্মীদের

দেশে চা উৎপাদনে নতুন রেকর্ড