সোমবার, মে ১৬, ২০২২

সরকারি ব্যয় বাড়ছে আট হাজার কোটি টাকা

আরও পড়ুন

রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে খাদ্যপণ্য, কৃষি, জ্বালানি তেল ও এলএনজির মূল্য বেড়েছে। আর এসব খাতে সরকারের নির্ধারিত ভর্তুকির অঙ্ক ঠিক থাকছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে কমপক্ষে আরো আট হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বাড়াতে হিসাব কষছে অর্থ বিভাগ। যদিও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদা ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ভর্তুকি বেড়ে যাওয়ায় বেশ চাপের মুখে পড়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, গত দু’বছর করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে অর্থনীতি চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সেখান থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসার আগেই শুরু হয় রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এ ছাড়া যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের অভ্যন্তরে এক দফা মূল্য বাড়িয়ে সমন্বয় করা হয়েছে। কিন্তু এখন বর্ধিত দামেই কিনতে হচ্ছে জ্বালানি তেল। নতুন করে মূল্য সমন্বয় করা হবে না। ফলে এ খাতে ভর্তুকির অঙ্ক বাড়বে। এ ছাড়া বেড়েছে সার ও খাদ্যপণ্যের দামও। আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম বাড়লেও সরকার কৃষকের সারের মূল্য বৃদ্ধি করেনি। কৃষককে দেয়া হচ্ছে ভর্তুকি মূল্যে সার। ফলে বড় ধরনের ভর্তুকি এ খাতেও গুনতে হবে। এ ছাড়া রেমিট্যান্স প্রভাব ঠিক রাখতে সরকার নিজেই এ খাতে প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে ২.৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। এখানে ভর্তুকি বাড়ছে।

জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ভর্তুকির অঙ্ক বাড়বে। এটি ব্যবস্থা করতে হলে আমাদের রেমিট্যান্স ব্যবস্থার প্রতি নজর রাখতে হবে। এ খাত যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। রপ্তানি এখনো পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত হয়নি। রপ্তানি আয় বাড়ানো বিশেষ করে নতুন পণ্য, নতুন দেশ খুঁজতে হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে বিশেষ করে রাজস্ব আহরণ আরো বাড়াতে হবে। কারণ এই মুহূর্তে ভর্তুকি বন্ধ করা যাবে না। ভর্তুকির প্রয়োজন হবে।

সর্বশেষ