সোমবার, নভেম্বর ২৯, ২০২১

সরাইল-অরুয়াইল সড়কে জনগণের চরম দুর্ভোগ

আরও পড়ুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে তৌহিদুর রহমান নিটল: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার হাওড় বেষ্টিত ভাটি অঞ্চলের মানুষের চলাচলের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ সরাইল-অরুয়াইল সড়কটির এখন বেহাল দশা। চুন্ডা-পাকশিমুল ও অরুয়াইল ইউনিয়নের জেলা ও উপজেলার সাথে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। সড়কটি তৈরি হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন অংশে মেরামত করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), ব্রাহ্মণবাড়িয়া। তবে বর্ষা মৌসুমে দু’দিকের পানির ঢেউয়ে সড়কের প্রায় অংশ ভেঙ্গে যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। ফলে চরম দুর্ভোগ নিয়ে সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে এসব এলাকার মানুষের।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়কটির চুন্টা ব্রীজ থেকে ভূইশ্বর বাজার পর্যন্ত অর্ধ-কিলোমিটার জায়গা বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ এই সড়কটির মূল ব্যাসার্ধের দু’পাড়ের মাটি ভেঙ্গে খোয়া-বিটুমিন সরে যাওয়ায় যানচলাচলে দেখা দিয়েছে বড় সমস্যা। বালু আর খোয়া একাকার হয়ে বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

হাওড় অঞ্চলের ব্যস্ততম সড়কটি খানা-খন্দের কারণে একপাশ থেকে গাড়ি আসলে অন্যপাশের গাড়িকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এ সময় যানজটও তৈরি হয়। ফলে কর্মজীবী লোকজন সময়মতো অফিসে বা বিভিন্ন কাজে জেলা বা উপজেলায় পৌঁছাতে পারেন না, এমন অভিযোগ অনেকের। প্রায়সময়ই উল্টে যাচ্ছে পণ্যবাহী গাড়ি, আটকে পড়ছে সিএনজি অটোরিকশাসহ রোগীবাহী গাড়ি। লক্ষাধিক মানুষের প্রতিদিনের এ দুর্ভোগ যেন নিত্য সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ পথে প্রতিনিয়ত চলাচলকারী সিএনজি চালক মহসিন মিয়া বলেন, “উপজেলা সদরসহ জেলা শহরের সাথে মানুষের যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। আমরা উপজেলাসদর থেকে অরুয়াইল বাজার পর্যন্ত প্রতিনিয়তই যাত্রী নিয়ে এই সড়কে চলাচল করি। বর্তমানে এটির অনেক অংশ ভেঙ্গে সরু হয়ে গেছে। প্রায় সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। গন্তব্যে যেতে দুইগুণ বেশি সময় লাগছে। ধুলার কারণে গর্তগুলোও দূর থেকে বুঝা যায় না, সব সাদা হয়ে যায়। সড়কটি এখন ‘মরণ ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।”

পণ্যবাহী গাড়ি ড্রাইভার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “মালামাল নিয়ে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা অনেক ভয় নিয়ে চলাচল করি। ধুলাবালির কারণে বড় বড় গর্ত বোঝা যায় না। তবু মালিক আর ব্যবসায়ীদের অনুরোধে আসতে হয়। প্রায়ই পিকআপসহ পণ্যবাহী গাড়ি উল্টো যাচ্ছে। সড়কটি দ্রুত মেরামত না করলে আর মালামাল নিয়ে আসা সম্ভব না।”

ষাট বছরের বৃদ্ধ আলফা মিয়া বলেন, “ডাক্তারের কাছে গেছলাম, এখন গাতার কারণে ডরে গাড়ি তেকে নাইমা গেলাম, কোন সময় সিএনজি উল্ডাইয়া পইরা মরি। এইডা এখন আর রাস্তা না মরণের ফাঁদ।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শিরাজুল ইসলাম বলেন, সড়কটি মেরামত জন্য প্রায় ৪ কোটি টাকার কাছাকাছি দরপত্র আহ্বান করা হচ্ছে। অচিরের সড়কটি মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।

নিউজ হান্ট/এএস

সর্বশেষ