মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২১

সাম্প্রদায়িকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্য গড়তে হবে: রাষ্ট্রপতি

আরও পড়ুন

সাম্প্রদায়িকতা, অগণতান্ত্রিকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। আজ বুধবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর স্মারক ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

নিজের ভাষণে পরমতসহিষ্ণু ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বানও জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসতে বলেন।

সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ আলোচনার শুরুতে দেয়া স্মারক ভাষণে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলের মধ্যে ঐক্য। ঐক্য গড়ে তুলতে হবে সাম্প্রদায়িকতা, অগণতান্ত্রিকতা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক দলসমূহকে পরমতসহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

এ সময় মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে দলমতের পার্থক্য ভুলে উন্নয়নের যাত্রায় শামিল হওয়ার আহ্বানও জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, আসুন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা দল-মত-পথের পার্থক্য ভুলে, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে জাতির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা ও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার মধ্য দিয়ে লাখো শহিদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করি।

স্মারক ভাষণে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীতে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে উল্লেখ করেন মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেণ, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দুর্নীতি, মাদক, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও উগ্রবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কারণে দেশে স্বস্তি বিরাজ করছে যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে। নিজের ভাষণে সরকারের সময়োচিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপের কারণে অনেক উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ এবং সংক্রমণজনিত মৃত্যুর হার অপেক্ষাকৃত কম বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় সংসদে দেয়া স্মারক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সি প্রশংসা করেন মো. আবদুল হামিদ। বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় মনোবল, বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন হয়েছে। এ সেতুর বাস্তবায়ন জাতি হিসেবে আমাদের স্বকীয়তা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা, সক্ষমতা, জবাবদিহি, দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীকস্বরূপ মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সাহস দিয়েছে।

রাষ্ট্রপতির ২৫ মিনিটের বক্তব্য শেষে নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সংগীত বাজান হয়। সংসদ কক্ষ থেকে তিনি চলে যাওয়ার পর স্পিকার শিরীন শারমিন অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি করেন।

নিউজ হান্ট/আরকে

সর্বশেষ