রবিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২১

সেই মেয়রের বিরুদ্ধে তিন মামলা, বিক্ষোভে উত্তাল রাজশাহী

আরও পড়ুন

রাজশাহী থেকে মীর তোফায়েল হোসেন: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণ নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য ও ম্যুরাল নির্মাণ প্রতিহতের ঘোষণা এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠছে রাজশাহী।

এরই মধ্যে মেয়র আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন থানায় তিনটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে রাজশাহীর নগরের রাজপাড়া, বোয়ালিয়া ও চন্দ্রিমা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ তিনটি এজাহার দায়ের করা হয়। এজাহারগুলো গ্রহণ করে মামলা রেকর্ডের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

এদিকে কাটাখালি পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার সকালে রাজশাহী নগরী এবং কাটাখালি পৌর এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে দলটির নেতাকর্মী ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা। আগামীতে আরও কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন।

বুধবার সকালে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজনে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের কমান্ডার আব্দুল মান্নান।

মানববন্ধনে মেয়র আব্বাস আলীকে দল থেকে বহিষ্কারসহ তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। এই মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামানিক, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান প্রমুখ।

এদিকে, মেয়র আব্বাসকে দল থেকে বহিষ্কার ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করেছে কাটাখালি পৌরসভা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার সকাল ১১টায় কাটাখালি বাজারে জড়ো হয়ে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা।

মিছিল শেষে কাটাখালি পৌরসভা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যক্ষ জহুরুল আলম রিপনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদ আলী, কাটাখালির সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব মোল্লাহ, কাটাখালি পৌরসভা যুবলীগের আহবায়ক জনি ইসলাম, পবা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম রাজু প্রমুখ।

এদিকে, এ ঘটনায় মেয়র আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন থানায় তিনটি এজাহার দায়ের করা হয়। এর মধ্যে বোয়ালিয়া থানায় দায়ের করা মামলার বাদী হয়েছেন, রাজশাহী নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন।

এছাড়াও চন্দ্রিমা থানায় দায়ের করা মামলার বাদী নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তহিদুল হক সুমান এবং রাজপাড়া থানায় ১৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে এজাহার দায়ের করেন।

রাজশাহীর কাটাখালি পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী একটি ঘোরায় বৈঠকে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের পৌরসভার অংশের উন্নয়নকাজ নিয়ে কথা বলার সময় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর মুর‍্যাল নির্মাণ প্রতিহতের ঘোষণা দেন নৌকা প্রতীকে দুইবারের নির্বাচিত মেয়র আব্বাস আলী।এছাড়াও তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে নিয়েও অশ্লীল মন্তব্য করেন। এ নিয়ে তার ফাঁস হওয়া অডিওটি গত রোববার রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

নিউজ হান্ট/কেএইচ

সর্বশেষ